অনেক সময় আমরা শরীরের রোগের সংকেত বুঝতে পারি না। মানসিক চাপ ভেবে অনেক বিষয় এড়িয়ে যাই। বিশেষ করে যখন হাত-পা অবশ লাগে, হঠাৎ ঘুম কমে যায় কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগে আমরা সেটা মানসিক চাপ ভেবে এড়িয়ে যাই। আসলে সবসময় কিন্তু বিষয়টা এমন হয় না।
চিকিৎসকদের মতে এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে তা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস) নামের জটিল স্নায়ুরোগের ইঙ্গিতও হতে পারে। হিন্দুস্তান টাইমস থেকে জানা যায় নিউরোলজিস্ট ডা. প্রবীণ গুপ্ত জানিয়েছেন,২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এই রোগ তুলনামূলক বেশি ধরা পড়ে। তবে প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ সমস্যার মতো হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হয়।
ডা. প্রবীণ গুপ্ত জানান, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা এমএস এমন একটি রোগ, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত স্নায়ুর ওপর থাকা সুরক্ষামূলক আবরণে আক্রমণ করে। এতে মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে সমস্যা তৈরি হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি ধীরে ধীরে শারীরিক অক্ষমতার কারণও হতে পারে।
চিকিৎসকের মতে, অনেক নারী প্রথমে অতিরিক্ত ক্লান্তি, শরীর ব্যথা বা ঝিনঝিন অনুভূতির মতো সমস্যা নিয়ে সাধারণ চিকিৎসক বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান। তখন এসব উপসর্গকে অনেক সময় স্ট্রেস, ভিটামিনের ঘাটতি, ঘাড়ের সমস্যা বা উদ্বেগজনিত সমস্যা বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গ কিছুদিন পর কমে যায়, আবার ফিরে আসে। ফলে রোগীরা নিউরোলজিস্টের কাছে যেতে দেরি করেন। পরিবার ও কর্মজীবনের ব্যস্ততায় অনেক নারী নিজের শারীরিক সমস্যাকেও গুরুত্ব দেন না, যা রোগ শনাক্তে আরও বিলম্ব ঘটায়।
যে ৮ লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়
ডা. প্রবীণ গুপ্তের মতে, নিচের উপসর্গগুলো বারবার দেখা দিলে বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
এক চোখে ঝাপসা দেখা
শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়া
হাত বা পায়ে দুর্বলতা
হাঁটতে অসুবিধা
ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
কথা জড়িয়ে যাওয়া
অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত ক্লান্তি
দ্রুত শনাক্ত হলে চিকিৎসা সহজ
বিশেষজ্ঞের মতে, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণ করা, পুনরায় সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি কমানো এবং দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। তাই দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের স্নায়বিক উপসর্গ থাকলে শুধু স্ট্রেস বা ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত একজন নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেয়ার পরামর্শ নেয়াই ভালো।
খুলনা গেজেট/এএজে

