বাংলাদেশ বেতার, খুলনা কেন্দ্রের ভাঙচুর মামলার ২২ মাস তদন্তের পর পুলিশ ঘটনা ও আসামিদের চিহ্নিত করতে পারেনি। সন্দেহজনকভাবে ৪০ জনকে গ্রেপ্তারের পর ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা না থাকায় চার্জশিটে কারও নাম উল্লেখ হয়নি। সংশ্লিষ্ট আদালত এ মামলা খারিজ করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তেজিত জনতা বেতার ভবন ভাঙচুর করে।
বেতার কর্মকর্তাদের সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে দেশব্যাপী সরকার পদত্যাগের কর্মসূচি চলছে। খুবি, খুমেক, কুয়েট, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিএল কলেজসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা রাজপথে। আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে ‘স্লোগান এক দফা এক দাবি, শেখ হাসিনা কবে যাবি’। ‘তোর কোটা তুই নে আমার ভাইকে ফিরিয়ে দে’।
সেনা সদস্যরা তখন ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করার অপরাগতা প্রকাশ করে। ৪ আগস্ট দুপুরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিস ও শেরে এ বাংলা রোডস্থ শেখ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়। শিববাড়ি, জিরো পয়েন্ট ও খুবি প্রাঙ্গণে ছাত্র জনতার বিরতীহীন স্লোগান। ৫ আগস্ট বেলা ৩টা নাগাদ খবর আসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। এ খবরের পর নুরনগর, জোড়াগেট ও শিববাড়ি মোড়ের অতিউৎসাহী মানুষ বাংলাদেশ বেতার, খুলনা কেন্দ্রে এসে গানপাউডার নিক্ষেপ করে। বেতার ভবন জ্বলতে থাকে। স্টুডিও, আর্কাইভ ও অন্যান্য ভবনগুলোর সম্পদ পুড়ে ছাই হয়। বেতার ভবনের নিরাপত্তায় থাকা ১৪ জন সশস্ত্র পুলিশ দেওয়াল টপকিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিনও এ ভবনে আগুন জ্বলতে থাকে। দুর্বৃত্তরা বেতারের সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। ৬ আগস্ট পর্যন্ত বেতার ভবন পুড়তে থাকে।
অগ্নিকাণ্ডের পর স্বাভাবিক অনুষ্ঠান সম্প্রচার ৭৫ দিন বন্ধ ছিল। ধারাবাহিকতার ছন্দ পতন হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সকাল ৯টা সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলে। পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচারের দাবিতে বেতার শিল্পীরা আন্দোলন করছে।
২৭ আগস্ট বেতার কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ শাহা আলম সোনাডাঙ্গা থানায় জিডি করেন। জিডিতে তিনি সম্পদ লুটের বিবরণ তুলে ধরেন। স্টুডিও, মাস্টার কন্ট্রোল রুম, আর্কাইভ, জেনারেটর রুম, ট্রান্সমিটার রুমে অগ্নিসংযোগ ও কিছু সম্পদ লুট হয়।
একশ’ কোটি টাকার সম্পদ ভষ্মিভুত হয়েছে। প্রথমদিকে সংশ্লিষ্ট থানার এসআই মোঃ আব্দুল হাই তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়। পরে মোঃ সোহেল রানা তদন্ত শেষে গত ১৭ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে তিনি উল্লেখ করেন, আগামীতে আসামির নাম ঠিকানা পাওয়া গেলে এ মামলা পুনরুজ্জীবিত করা হবে। ২৫ জুন আদালত মামলা খারিজের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর গল্লামারীতে রেডিও পাকিস্তান, খুলনা কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। পরাজয় অনুভব করে ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর পাক বাহিনী ডিনামাইন্ড দিয়ে বেতারের ট্রান্সফর্মার বিনষ্ট করে দেয়। ১৯৭৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রংপুর থেকে এক কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সমিটার এনে এখানে স্থাপনের মাধ্যমে পুনঃসম্প্রচার শুরু হয়। ১৯৭৯ সালের ১৩ জুলাই নূরনগর বেতার ভবন সম্প্রচার শুরু হয়।
খুলনা গেজেট/এনএম

