ভারতের ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে আইনি জটিলতায় পড়েছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। কলকাতায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি কুরুচিকর ছবি সম্বলিত পোস্টার হাতে থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন অভিনেত্রী।
জানা গেছে, আনন্দপুর থানায় বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ শ্রীলেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এছাড়া বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানাসহ বিভিন্ন জেলায়ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে।
২৪ জুলাই কলকাতায় নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ঘটনাটি ঘটে। এসময় একটি পোস্টার হাতে ছবি তুলেছিলেন শ্রীলেখা। অভিযোগ, ওই পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি আপত্তিকর ছবি ছিল।
পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো এফআইআর দায়ের হয়নি। পুলিশ সূত্রের দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২, ৩৫৩ ও ৩৫৬ ধারার উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন শ্রীলেখা মিত্র। তিনি বলেন, ‘আমি একটি বিশেষ পোস্টার ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি—এমন একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। আমি হয়তো বিজেপিবিরোধী, কিন্তু আমাকে দেশদ্রোহী বলা খুবই হাস্যকর। তেমনি এটাও হাস্যকর যে আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ওই পোস্টার হাতে নিয়েছি।’
অভিনেত্রীর দাবি, বিক্ষোভের সময় তিনি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ করছিলেন। সঙ্গে প্রয়োজনীয় চশমা না থাকায় পোস্টারটি ভালোভাবে দেখতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘চশমা নিয়ে যেতে ভুলে গিয়েছিলাম। শুধু রোদচশমা ছিল। তাই পোস্টারে কী ছিল, সেটা ঠিকভাবে দেখতে পাইনি। সে সময় পুলিশের লাঠিচার্জ চলছিল। ব্যস্ততার মধ্যে পোস্টারটি ঘুরিয়ে দেখারও সুযোগ পাননি।’
অন্যদিকে অভিযোগকারী বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ বলেন, দলীয় পরিচয়ের বাইরে একজন নাগরিক হিসেবেই তিনি বিষয়টিকে আপত্তিকর মনে করেছেন। তার দাবি, এ ধরনের কুরুচিকর ছবি প্রদর্শনের জন্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে আমরা আদালতেরও দ্বারস্থ হব।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রুজু হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে পুলিশ।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
খুলনা গেজেট/রুএ

