শিশু শিক্ষার্থীকে চড় মারার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) শিশুর নানা আব্দুর রশীদ বাদী হয়ে এই মামলা করেন। পরে আদালত পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আদেশ দিয়েছে।
অপরদিকে প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় শিশু শিক্ষার্থীর মা মিতালী খাতুন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
এ মামলার মূল অভিযুক্ত ফার্মপাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে শামসুউর রহমান শুভকে পুলিশ এখন পর্যন্ত ধরতে পারেনি। আদালতে আত্মসমর্পনেরও তেমন তথ্য মেলেনি।
এর আগে গত ৮ জুলাই চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বুলির সময় বিশৃঙ্খলার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম এক শিশু শিক্ষার্থীকে চড় থাপ্পড় মারেন। বিষয়টি শিশুর বাবা-মা জানার পর শিশু সন্তানকে কেনো মারধর করা হয়েছে তা জানতে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষকের সামনে যান। এ সময় কথোপকথনের একপর্যায়ে শিশুর বাবা শামস উর রহমান শুভ প্রধান শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে এ ঘটনায় দৃশ্য সিসি ক্যামেরায় ধরা পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
একপর্যায়ে ঘটনার দিন শিশুর বাবা-মাকে আসামি করে প্রধান শিক্ষক মামলা করেন। পরে পুলিশ শিক্ষার্থীর মা মিতালীকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি জামিনে মুক্ত হন। অপরদিকে শিশুর নানা আব্দুর রশীদ বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষককে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা করেন।
চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আমলী আদালতে করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ের সমাবেশ চলাকালে গরমে অসুস্থ বোধ করায় শিক্ষার্থী দুই হাতে কান চেপে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে লাইনের বাইরে টেনে এনে দুই গালে চড় মারেন এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে শিশুটির বাবা-মা ও স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করেন।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় মামলা নিতে না চাওয়ায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। এছাড়া শিক্ষার্থীর বাবা সামস উর রহমান শুভকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গুম করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অপরদিকে প্রধান শিক্ষকের দায়েরকৃত মামলায় শারীরিকভাবে আঘাত, শ্লীলতাহানিসহ সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

