মঙ্গলবার । ৩০শে জুন, ২০২৬ । ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩

বছরের শেষ দিকে খুলনা জেলা বিএনপি’র সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

শাসক দল বিএনপি সাড়ে চার মাস সময় অতিক্রম করেছে। এ সময়ে দলের চেয়ে তারা সরকারের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। জেলা শাখা সংগঠিত করতে ডিসেম্বর নাগাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২০২২ সালের ৫ মে সর্বশেষ জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যমান জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তদবির নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কেসিসি ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের পর তারা সরকারি দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত। দিবস পালন, জানাজা ও জন্মদিন অনুষ্ঠানে হাজিরা ছাড়া সংগঠন গোছানোর কাজে তাদের মনোযোগ নেই। ৩০ মে দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাতবার্ষিকী পালনে কর্মীরা বেশ সক্রিয় ছিল। বাজেট ঘোষণার পর সাংগঠনিক কার্যক্রম একেবারেই নেই।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ ৬১ সদস্যের জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয়। এ কমিটির আহ্বায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু ও সদস্য সচিব শেখ আবু হোসেন বাবু। দু’জনই সাবেক ছাত্রনেতা এবং দক্ষ সংগঠক। বছর খানেক আবু হোসেন বাবু শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় সদস্য সচিব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে আছেন। জেলা শাখার সদস্য এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে সাংগঠনিক কাঠামোকে ধরে রেখেছেন। শীর্ষ পর্যায়ের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাংগঠনিক তৎপরতায় নেই। প্রতিদিন গ্রুপিং, দেনদরবার, কর্মসংস্থানের তদবির, খাল ও হাটের ইজারা, থানায় আসামি মুক্ত করার কাজে উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ব্যস্ত থাকেন।

প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পির সাথে। তিনি দলের জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব। জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। গেল জাতীয় নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে দলের প্রার্থী ছিলেন। একসময় তিনি রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। আওয়ামীলীগ জামানায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীও ছিলেন। দক্ষ সংগঠক। সকাল থেকে রাত অবধি দলীয় নেতা-কর্মীদের সুবিধা-অসুবিধা দেখেন।

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেন। তৃণমূলে অগোছলা সংগঠন শিকার করে বলেন, “সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের দিকে আমরা নজর দিয়েছি। মহিলা, যুব ও ছাত্রদলকে পুনর্গঠন করা হবে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা কমিটি গঠন শেষে জেলা সম্মেলনের দিকে বিশেষ করে নজর দেওয়া হবে।” হাইকামাণ্ডের নির্দেশনা পেলে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ জেলা সম্মেলন করা হবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, “মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো ঢেলে সাজানো হবে। তৃণমূল থেকে জেলা পর্যন্ত দক্ষ সংগঠক তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

ইউপি নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়ন সম্পর্কে বলেন, “মৌন সমর্থন থাকবে। কোনোক্রমেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের উৎসাহিত করা হবে না। বর্তমান সরকারের সাড়ে চার মাস সময় এবং গেল ১৭ বছরের সাংগঠনিক কার্যক্রম মূল্যায়ন করে ইউপি প্রার্থীর প্রতি নেক নজর দেওয়া হবে। তবে তিনি আশা করেন আগামী ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন