রবিবার । ২৮শে জুন, ২০২৬ । ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি

গেজেট প্রতিবেদন

আগামী অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নির্বাচন আয়োজনে ব্যালট বাক্স, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার প্রস্তুত আছে। ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত হয়ে আছে। তবে নির্বাচন আয়োজনে বাজেট কিছুটা কমানো যায় কি না- সেটা নিয়েও ভাবছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি।

রবিবার (২৮ জুন) স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত ইসির দীর্ঘ বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেনি ইসি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সকাল ১১টা থেকে বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন নির্বাচন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-কানুন ও আচরণবিধির খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় প্রণয়নের অপেক্ষায় থাকা আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করতে রাজনৈতিক দলসহ অংশিজনদের মতামত পাওয়ার ১৫ দিনের মতো সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়। স্থানীয় সরকারের পৃথক পাঁচ ধরনের নির্বাচনের জন্য খসড়া আচরণ বিধিমালা ইতোমধ্যে ইসির ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে। ৩০ জুনের মধ্যে এসব নিয়ে মতামত দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আলাদা চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ায় ভোটকেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যা বাড়বে বলে জানানো হয়। বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে সবকিছুই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মত দেওয়া হয়। এছাড়া ভোটগ্রহণের আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি হিসেবে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী সরঞ্জামসহ অন্যান্য পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ভোটগ্রহণের ব্যয় যথাসম্ভব কমানোর ওপর জোর দেন নির্বাচন কমিশনাররা।

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে অক্টোবরকে লক্ষ্য ধরেই কাজ এগুচ্ছে ইসি। আর অক্টোবরে হলে এর ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। আমরা মূলত অক্টোবর ধরেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

বৈঠকের আলোচনার বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, সব ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া বিষয়ে কমিশন অবহিত হয়েছে। ৪ হাজার ৫০০ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করতে হলে কোনটা আগে বা কোনটা পরে করব তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব জিনিসপত্র প্রস্তুত আছে কি না— সেটাও অবহিত করা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত নির্বাচনের চেয়ে কিছু ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের পরপর এই স্থানীয় নির্বাচন হওয়ায় আমাদের ব্যালট বাক্স প্রস্তুত। প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ হবে এসবের প্রস্তুতিও আছে।

তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হলেও নতুন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাও কিছুটা বাড়তে পারে। আমরা এটা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা করেছি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নেবো না।

আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এবারের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো হবে নির্দলীয়, অর্থাৎ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার থাকছে না। তারপরও আমরা মনে করছি, যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে। কাজেই ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছাই হোক, নির্দলীয় নির্বাচনে তারাও ইনভলভ থাকবেই। এই কারণেই তাদের কাছে মতামত জানতে চেয়েও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

কবে নাগাদ আচরণবিধির খসড়াগুলো চূড়ান্ত করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অংশীজনের মতামত পাওয়ার পর সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়। এই সময়ের মধ্যে আমরা করে ফেলতে পারব। আমরা আইন কানুন দেখেছি। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাংবাদিকসহ যেকেউ ওপর মতামত দিতে পারবেন এবং সবার গ্রহণযোগ্য মতামত নিয়েই খসড়া আচরণ বিধিমালায় সংযোজন-বিয়োজন আনা হবে বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

বদলে যাচ্ছে ইসির ওয়েবসাইট
ইসির বর্তমান ওয়েবসাইটটি বদলানো হচ্ছে। এটিকে আধুনিক করে নতুন সাইটে যাচ্ছে তারা। এজন্য ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ও সক্ষমতা যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সভা করবে ইসি। সোমবার দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন ভবনে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। রোববার ইসির সহকারী প্রোগ্রামার (উপাত্ত ও প্রশাসন) এস এম সাদমান সাকিবের সই করা এক চিঠি থেকে বিষয়টি জানা যায়। এতে বলা হয়, পরীক্ষাধীন ওয়েবসাইটটির রিডিজাইন, হালনাগাদ ও ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত কার্যক্রম চলছে। এর অংশ হিসেবে ওয়েবসাইটের ফাংশনাল, সিকিউরিটি ও লোড টেস্টিং সম্পন্ন করতে ২৯ জুন দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন ভবনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ইসির সিস্টেম ম্যানেজারের সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রতিনিধি এবং ওয়েবসাইট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান রাইজআপ ল্যাবসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন