সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেতে চাইলে এখন থেকে আরও একটি বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে বাংলাদেশিদের। দেশটির ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি সিটিজেনশিপ কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (ICP) ভিসা আবেদনে নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছে, জমা দিতে হবে “গুড কন্ডাক্ট সার্টিফিকেট” বা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ (PCC)।
বিশ্বের ৪৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য এই নিয়ম ধাপে ধাপে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যার মধ্যে মিশর, ভারত, পাকিস্তান, নাইজেরিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশও রয়েছে। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে নিয়মটি কার্যকর হবে আগামী ১৫ আগস্ট ২০২৬ থেকে।
আমিরাত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের বাইরে থেকে ভিসার আবেদন করলে নিজ দেশ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহের পাশাপাশি ১০ আঙুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট কার্ডও জমা দিতে হবে। এই দুটি নথিই আবেদনকারীর নিজ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিকটস্থ UAE দূতাবাস বা কনসুলেট থেকে বিধিমতো প্রত্যয়িত (Attested) হতে হবে। প্রত্যয়ন ছাড়া দাখিল করা সনদ কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
তবে যাঁরা ইতিমধ্যে আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন, তাঁরা সরাসরি সরকারি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে এই সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন। দুবাইয়ে থাকলে দুবাই পুলিশের ওয়েবসাইট বা স্মার্ট অ্যাপের মাধ্যমে এবং অন্যান্য আমিরাতে থাকলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOI) ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।
এই সনদ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্তও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সনদটি ইস্যুর তারিখ থেকে মাত্র ‘তিন মাস’ পর্যন্ত বৈধ থাকবে। সনদে অবশ্যই “ক্লিয়ার” বা নিরপরাধ স্ট্যাটাস থাকতে হবে কোনো মামলা বিচারাধীন থাকলে ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাবে। এছাড়া সনদটি অবশ্যই আরবি বা ইংরেজি ভাষায় হতে হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই নতুন ভিসা পদ্ধতি ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে। নিজের জাতীয়তার ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য কিনা, তা নিশ্চিত হতে ICP-এর দাপ্তরিক পোর্টাল যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার আরব আমিরাতে বর্তমানে দশ লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মসংস্থান ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেশটিতে পাড়ি দেন। নতুন এই শর্ত ভিসা প্রক্রিয়াকে কিছুটা দীর্ঘ ও জটিল করবে, তবে ১৫ আগস্টের আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নিলে বাড়তি ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা গেজেট/এএজে

