রবিবার । ২১শে জুন, ২০২৬ । ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩

ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি মসজিদ-মাদরাসা গুঁড়িয়ে দিল বিজেপি সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত ৪৫ দিনের মধ্যে ২৩টিরও বেশি মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ ভাঙা বা আংশিকভাবে অপসারণের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিররের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব ঘটনার অধিকাংশই বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে সংঘটিত হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকারি জমি দখল, অনুমোদনহীন স্থাপনা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এসব উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ও প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকেও একই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, কয়েকটি মসজিদ ও দরগাহ বহু বছর ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। আকস্মিক উচ্ছেদ বা ভাঙচুরের ঘটনায় অনেক এলাকায় উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এসব ঘটনাকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, আইন প্রয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সময় ধর্মীয় স্থাপনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংবেদনশীলতা দেখানো হয়নি। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, এসব পদক্ষেপ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ দখলমুক্তকরণ, অনুমোদনহীন নির্মাণ অপসারণ এবং নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত দেড় মাসে বিভিন্ন রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে এমন উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠন ও সংখ্যালঘু অধিকার পর্যবেক্ষক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা ঘটনাগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এসব ঘটনাকে ঘিরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একপক্ষ প্রশাসনের আইন প্রয়োগ ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যপক্ষ ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রশ্ন তুলছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনপরিসরে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম হয়েছে।

সূত্র: মুসলিম মিরর

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন