আগামীকাল ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ‘ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ বা ইসলামাবাদ এমওইউ স্বাক্ষরের যে অনুষ্ঠান নির্ধারিত ছিল, সেটি আর হচ্ছে না বলে দাবি করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে ইতোমধ্যে চুক্তিস্বাক্ষর হয়ে গেছে। যেহেতু দুই দেশের প্রেসিডেন্ট চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, তাই আলাদাভাবে শুধু আনুষ্ঠানিকতার জন্য জেনেভায় প্রতিনিধি পাঠানোর প্রয়োজন দেখছে না ইরানের সরকার।”
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে ঘিরে টানাপোড়েনের জেরে টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত এবং তারপর যুদ্ধবিরতির নামে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থবির অবস্থার পর গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ইসলামাবাদ এমওইউ চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৪টি পয়েন্ট সম্বলিত ৮০০ শব্দের এই খসড়া নিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় আলোচনা-পর্যালোচনার পর সেটি চুক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে সম্মত হয় ইরান। এর মধ্যে গতকাল বুধবার প্যারিসে শিল্পোন্নত ৭ দেশের জোট জি-৭ সামিটের সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসলামাবাদ এমওইউ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কিছুক্ষণ পর তেহরানে নিজের দপ্তরে চুক্তি স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। ইরান ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো এই চুক্তি স্বাক্ষরের ছবি প্রকাশও করেছে।
ইসলমাবাদ এমওইউ স্বাক্ষরের ফলে প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা, সেই চুক্তির বক্তব্য ও শর্ত নির্ধারণ, ইরানের পরমাণু প্রকল্প, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি ইস্যুতে আলোচনার জন্য ৬০ দিন সময় পাচ্ছে ওয়াশিংটন এবং তেহরান। এই ৬০ দিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অবাধে চলাচল করতে দেবে ইরান; তার পরিবর্তে ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে নেবে মার্কিন বাহিনী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বাঁধার পর থেকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় আছে পাকিস্তান। গতকাল সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, অবিলম্বে চুক্তির শর্তগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হবে।
ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের শর্তগুলো খুব ভালোভাবে পর্যালোচনার পরেই তেহরান এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে উল্লেখ করে আইআরআইবিকে ইসমাইল বাঘায়েই বলেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত ছিল এই পর্যায়ে পারমাণবিক বিষয় নিয়ে আলোচনা না করা। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর উপর মনোযোগ দেওয়া হবে, এবং আমরা তা অর্জন করেছি।”
সূত্র : সিএনএন
খুলনা গেজেট/এএজে

