খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক তৈমুর ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ এই কর্মকর্তাকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) রাতে পরিদর্শক তৈমুর ইসলামকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করার আদেশ জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
তৈমুর ইসলামের বাড়ি খুলনা সদরের খানজাহান আলী সড়কে। পড়াশোনাও করেছেন খুলনায়। সোমবার পরিদর্শক তৈমুরের বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মে জড়ানো নিয়ে অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে।
প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের বর্ণনায়—তৈমুরের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান দখলে সহযোগিতা করতে কাউকে তুলে নিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো, মামলায় ঢোকানো ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগ উঠে আসে।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ নজরদারি বা পরিদর্শন ইউনিট পুলিশ ইন্টারনাল ওভারসাইটের (পিআইও) প্রতিবেদনেও তৈমুর ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ–অনিয়মে জড়ানোর বিষয়টি উঠে আসে। পরে গত বছর সেই প্রতিবেদন ধরে কেএমপির অনুসন্ধান শেষে তৈমুর ইসলামকে অন্য কোনো ইউনিটে বদলির সুপারিশ করা হয়েছিল।
গত বছরের ১৬ অক্টোবর তাঁকে ট্যুরিস্ট পুলিশে বদলির প্রজ্ঞাপন হয়। তাঁকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে বদলি করা কর্মস্থলে যোগদানের জন্য ছাড়পত্র নিতে বলা হয়। অন্যথায় ২৬ অক্টোবর থেকে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হয়েছেন বলে গণ্য হবেন বলেও উল্লেখ ছিল। তৈমুর সেই বদলির আদেশ বাতিলের আবেদন করলে ১৮ নভেম্বর তা নামঞ্জুর হয়। এর চার দিন পর ২৩ নভেম্বর ট্যুরিস্ট পুলিশে তাঁর পদায়নের আদেশ বাতিল করে খুলনা রেঞ্জে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের স্বাক্ষরিত এই তিন আদেশের পরও তৈমুর কেএমপি ছাড়েননি। খুলনা রেঞ্জে বদলির সেই আদেশও এ বছরের ১৫ মার্চ বাতিল করা হয়। সেই আদেশেও সই করেছেন অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন)। অর্থাৎ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দফায় দফায় আদেশ হলেও শেষ পর্যন্ত বেনজীর-ঘনিষ্ঠ সেই পরিদর্শককে কেএমপি থেকে সরানো যায়নি।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের রিসোর্টের জন্য ভয় দেখিয়ে জমি কিনে এর আগে আলোচিত হয়েছিলেন পরিদর্শক তৈমুর। র্যাবের মহাপরিচালক ও আইজিপি (মহাপরিদর্শক) থাকাকালীন (এপ্রিল ২০১৫–সেপ্টম্বর ২০২২) সাভানা ইকোরিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক গড়ে তোলেন বেনজীর আহমেদ।
স্থানীয় লোকজন জানান, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম বৈরাগীরটোলার ওই রিসোর্ট বানানোর তত্ত্বাবধানে ছিলেন তৈমুর।
২০২৪ সালের মে মাসে রিসোর্টের জন্য জমি বিক্রি করা পরিবারগুলোর ২৭ সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছিল। তাঁদের মধ্যে ২৫ জনই তখন বলেছিলেন, তাঁদের জমি বিক্রিতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁদের ভয় দেখিয়েছেন পুলিশের পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম।
আওয়ামী লীগের সরকারের পুলিশের ক্ষমতাধর কর্মকর্তা বেনজীর আহমদের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তখনো ‘প্রভাবশালী’ কর্মকর্তা হিসেবে বাহিনীতে পরিচিত ছিলেন তৈমুর ইসলাম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এ জন্য রিসোর্ট নির্মাণে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা নিয়ে তখন সংবাদ প্রকাশ হলেও আওয়ামী লীগের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
খুলনা গেজেট/এএজে

