সোমবার । ১লা জুন, ২০২৬ । ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মিয়ানমারে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত গ্রামে বড় বিস্ফোরণ, নিহত কমপক্ষে ৪৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ানমারের শান প্রদেশের নামখাম জেলার কাউং তাত গ্রামে শক্তিশালী বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। নিহত ও আহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এছাড়া বিস্ফোরণে কাউং তাতের প্রায় ২০০টি এবং পার্শ্ববর্তী গ্রাম পান লোনের ১০০টি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

শান প্রদেশের সঙ্গে চীন, লাউস এবং থাইল্যান্ডের সীমান্ত আছে। নিহতদের মধ্যে ৩ জন চীনা নাগরিক আছেন। বাকি নিহতদের মধ্যে ৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন এক বছর বয়সী শিশু আছে। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় রাত ১২টার দিকে ঘটেছে এই বিস্ফোরণ।

শান প্রদেশটি মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন। ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করার এক বছরের মধ্যে সেনাবাহিনীকে হটিয়ে শান প্রদেশ দখল করে টিএনএলএ।

শান প্রদেশে মূল্যবান জেড পাথরের খনি আছে। সেই খনির নিয়ন্ত্রণও টিএনএলএর হাতে।

বিস্ফোরণের পর প্রথম পর্যায়ে ধারণা করা হয়েছিল যে সামরিক বাহিনীর বিমান অভিযানের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে এক বিবৃতিতে টিএনএলএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, কাউং তাত গ্রামের একটি গুদামে খনির কাজে ব্যবহার উপযোগী বিস্ফোরক জেলিগনাইট ছিলো। ‘দুর্ঘটনাবশত’ সেই জেলিগনাইট ফেটে যাওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।

সোমবার (১ জুন) সকাল থেকে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে টিএনএলএর বিবৃতি আরও বলা হয়েছে, কাউং তাত এবং পান লোন গ্রাম থেকে মোট ৭৪ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

টিএনএলএ’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মৃত এবং আহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ বিভিন্ন ঘরবাড়ির ধ্বংস্তূপে এখনও অনেকে চাপা পড়ে আছে।

গুদামে রাখা জেলিগনাইটের বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটল, তা জানতে ইতোমধ্যে টিএনএলএ-এর উদ্যোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

উল্লেখ্য, টিএনএলএ মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি। ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারের জান্তা সরকার যে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে সবচেয়ে বেশি নাস্তানাবুদ হয়েছে, টিএনএলএ সেসবের মধ্যে টিএনএলএ অন্যতম।

সূত্র : বিবিসি

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন