মঙ্গলবার । ২৬শে মে, ২০২৬ । ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ঈদকে সমানে রেখে টুংটাং শব্দে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কর্মকারেরা

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ

ঈদ-উল-আযহার ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন গোপালগঞ্জের কর্মকারেরা। প্রতিদিন তৈরি করছেন পশু কোরবানি দেওয়ার বিভিন্ন অস্ত্র। সারা বছর কাজ না থাকলেও ঈদের কয়েক দিন কর্মব্যস্ত থাকেন তারা। আর সেই সাথে আয়ও হচ্ছে ভালো। লোহা আর কয়লার দাম বৃদ্ধি পেলেও এবারের কোরবানির ঈদে জেলায় কোটি টাকার এসব লৌহজাত পণ্য বিক্রির আশা কামার শিল্পীদের। সারা বছর কাজ না থাকায় কোনোভাবে সংসার চালিয়ে নেয়া এসব কর্মকারেরা এবারের ঈদে বাড়তি কাজ করে অধিক আয় করতে পারবেন, এমনটিই প্রত্যাশা তাদের।

জেলা শহরের পাঁচুড়িয়া এলাকার কামার পল্লিতে গিয়ে দেখা গেছে, আর মাত্র কয়েক দিন বাকী কোরবানির ঈদের। জেলার সর্বত্র কয়েক হাজার গরু কোরবানি হবে। এসব গরু কাঁটতে দরকার হবে ছোরা, চাপাতিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রের। তাই প্রতি বছরের মতো এবছরও সরগরম হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জের কামারপাড়া। হাতুড়ির টুংটাং শব্দে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে কর্মকারদের। সারা বছর কাজ কম থাকলেও এ সময়টা অস্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। সারা বছর কাজ কম থাকলেও এ সময়টা অস্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটায়, এক প্রকার খাওয়া-দাওয়া আর ঘুম ছেড়ে দিতে হয়েছে তাদের।

গত বছর লোহা প্রতি কেজি ৮০ টাকা করে কিনলেও এ বছর ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দরে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। সেই সাথে গত বছর ২৫০ টাকায় ১ বস্তা কয়লা কিনলেও এ বছর ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকায় কয়লা কিনতে হচ্ছে। লোহা ও কয়লার দাম বাড়ায় চামড়া ছাড়ানো ছুরি ২০০ টাকা, দা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বঁটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে আয়ও হচ্ছে ভালো। তবে সনাতনী পন্থার পরিবর্তে এখন অনেকেই আধুনিক কায়দায় ছুরি বা কাচি তৈরি এবং শান বা ধার দেওয়ার কাজ করছেন। আধুনিক কায়দায় আগের মতো কষ্ট এবং সময় বেশী ব্যয় করতে হয় না।

এদিকে গরু কোরবানি দিতে ও মাংস বানানোর জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে নতুন ভাবে বানাচ্ছেন ছোরা, চাপাতি ও ছুড়িসহ বিভিন্ন অস্ত্র। অনেকে আবার পুরানো অস্ত্র পান দিয়ে ধারালো করে নিচ্ছেন। গত বছরের মতো এবছরও অল্প মজুরি দিয়ে এসব অস্ত্র তৈরি করে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, সামনে ঈদ। এবছরও আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায়ে পশু জবাই দেবো। এজন্য চাপাতি ও ছোরাসহ বিভিন্ন অস্ত্রের জন্য কর্মকার পাড়ায় এসে অস্ত্রের অর্ডার করেছি। তবে দাম এ বছর কিছুটা বেশি। আশা করছি সময় মতো ডেলিভারি পেয়ে যাব।

অন্য ক্রেতা শহিদুল শেখ বলেন, এ বছর কোরবানি দিতে পশু কিনেছে। নিজ বাড়িতেই পশু জবাই দেবো। এ জন্য কামারপাড়ায় অস্ত্র বানাতে এসেছি। তবে এ বছর দামু একটু বেশি।

কামার পল্লীর কানাই কর্মকার বলেন, ঈদের দিনে যতই ঘনিয়ে আসছে ক্রেতার চাপ ও দিন দিন বাড়ছে। কেউ চাপাতি, কেউ ছোড়া, কেউ শাবল বানাতে ভিড় করছেন। কাজের চাপ থাকায় একপ্রকার খাওয়া-দাওয়া ঘুম ছেড়ে দিতে হয়েছে। সময়মতো ক্রেতাদের হাতে তাদের অর্ডারকৃত অস্ত্র তুলে দিতে হবে।

খোকন কর্মকার বলেন, এ বছর কাঁচা মালের দাম বেড়েছে। গত বছর লোহা প্রতি কেজি ৮০ টাকা করে কিনলেও এ বছর ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দরে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। সেই সাথে গত বছর ২৫০ টাকায় এক বস্তা কয়লা কিনলেও এ বছর ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকায় কয়লা কিনতে হচ্ছে। একটু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। দ্রুত সময়ে মজুরি নিয়ে অস্ত্র তৈরি করে দিতে দিচ্ছে। আর নতুন যে সব অস্ত্র বানিয়েছিলাম তা বিক্রি হয়েছে।

খুলনা গেজেট/এমএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন