টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ ঈদযাত্রীর পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহতরা সবাই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তারা চট্টগ্রাম ও ফেনী থেকে ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরছিলেন।
সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চরপাকা এলাকার মৃত সহিমুদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৫৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর এলাকার ফহিমুদ্দীনের ছেলে মামুন (৪০), নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি এলাকার সাকিম মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া (২০), একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাতাসপুর এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (২৫), নওগাঁর মান্দা উপজেলার হোসেনপুর-মোরশেদপুর এলাকার মৃত জাফরের ছেলে মাইনুল ইসলাম (৩৫), মান্দার পাকুড়িয়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে মাইনুল (৩৮), নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রামগা এলাকার রহমতুল্লার ছেলে আলমগীর হোসেন সুজন (২৪), মান্দার রাজেন্দ্রবাটি (ডেবরা) এলাকার একাব্বর আলীর ছেলে ইয়াকুব (১৫), মান্দার রাজেন্দ্রবাটি এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশা (২৮), একই এলাকার মোহাম্মদ সুলতানের ছেলে তারেক (২০), আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল বারিক (২০), পাকুড়িয়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (২২), কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বৈরাগীরচর এলাকার হাবিবুর রহমান প্রামাণিকের ছেলে হাসান আলী (৩৯) ও নাটোরের লালপুর উপজেলার নরেন্দ্রপুর এলাকার ইব্রাহিম মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ আলম মোল্লা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পরিবহন ভাড়ার খচর বাঁচাতে যাত্রীবাহী পরিবহনে না উঠে নিহতরা রডবোঝাই একটি ট্রাকের ওপর উঠে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়ে। এতে ট্রাকের ওপর থাকা যাত্রীরা রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। আহত হন আরও অন্তত ছয়জন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। খবর পেয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়।
গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান বলেন, মালবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের জন্য ১৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
খুলনা গেজেট/এএজে

