সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে উচ্চপর্যায়ের পুনর্গঠিত কমিটির বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নতুন পে স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক চাপ মোকাবিলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ‘থোক বরাদ্দ’ সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে সরকার গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে নবম পে স্কেলের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত তিনটি পৃথক কমিটি তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।
বৈঠকে তিনটি প্রতিবেদনের মধ্যে দুটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মূলত বেতন ভাতা বৃদ্ধি এবং বাজেট সামঞ্জস্যতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তৃতীয় প্রতিবেদনটি পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবসম্মত ও ত্রুটিমুক্ত করতে আরও কয়েকটি বৈঠকের প্রয়োজন হতে পারে। তবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগলেও আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে স্কেল কার্যকর করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত রয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে নবম পে স্কেল পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত ‘জাতীয় বেতন কমিশন’, ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন’ এবং ‘সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি’র সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য পুনর্গঠিত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। অর্থ বিভাগ কমিটিকে সার্বিক সচিবালয় সহায়তা দিচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সে কারণে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশিত হলেও সরকারি কর্মচারীরা ১ জুলাই থেকে বকেয়াসহ নতুন স্কেলের সুবিধা পাবেন।
অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা যেমন বিবেচনায় রাখা হচ্ছে, তেমনি সরকারের রাজস্ব সক্ষমতার দিকটিও গুরুত্ব পাচ্ছে। দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
জানা গেছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নবম পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রথম ধাপে মূল বেতনের অর্ধেক বৃদ্ধি কার্যকর হবে। দ্বিতীয় বছরে বাকি অর্ধেক এবং তৃতীয় বছরে সব ধরনের ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা চালু করা হবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

