‘কমপ্লিট শাটডউন’ উপেক্ষা করে অবশেষে শিক্ষার্থীশূন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। বৃহস্পতিবার(২১ মে) বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষকদের একাংশ ও কর্মচারীদের সঙ্গে তিনি নিয়োগ পাওয়ার আট দিনের মাথায় ক্যাম্পাসে যান।
ডুয়েটের শিক্ষক সমিতিরি সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া জানান, ক্যাম্পাসের শহীদ আবু সাঈদ ভবনে ভিসির কার্যালয়ে নিজের চেয়ারে গিয়ে বসেন তিনি। এ সময় শিক্ষক ও কর্মচারীরা ভিসিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এর আগে গাজীপুর মেট্রাপলিটন সদর দপ্তরের সভাকক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ভিসি। বৈঠক শেষে শিক্ষক ও কর্মচারীরাই ভিসিকে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান বলেন জানান ওই শিক্ষক।
‘লাল কার্ড ’ ও ‘ব্লকেড’ কর্মসূচির পর মঙ্গলবার বিকেলে ডুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা ক্যাম্পাসে পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার পর বুধবার সকালেই একেবারে ফাঁকা হয়ে যায় ক্যাম্পাস। শাটডাউন ঘোষণার পর মঙ্গলবার রাতেই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। যাদের বাড়ি অনেক দূরে তারা বুধবার সকালে ক্যাম্পাস থেকে বের হন।
ডুয়েটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর’ ব্যানারে আন্দোলনে নামে অন্য শিক্ষার্থীরা। সংঘর্ষ, হামলা-ভাঙচুর আর টানা ছয়দিনের বিক্ষোভে টালমাটাল ছিল ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)।
ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল হয়ে যায় ডুয়েট। নবনিযুক্ত ভিসিকে প্রত্যাহার করে নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডুয়েটের কোনো শিক্ষককে ভিসি নিয়োগ দেওয়াসহ তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বলে ঘোষণা দেয় মঙ্গলবার। এ দিন বিকেলে পুরো ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেন পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র হাসানুর রহমান।
লাল কার্ড ও ব্লকেড কর্মসূচির পর আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে ‘কমপ্লিট শাটডাউন ’ঘোষণা করা হয়। এ সময় তিনি বলেন, ‘মিথ্যা ট্যাগ ও মামলা দিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা নতুন ভিসির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে অনড় রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে আরও কঠোর আন্দোলন চলবে।’
বুধবার বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরদের মধ্য থেকে ১৫-২০ জনকে নিয়ে বৈঠক করেন নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। ডুয়েটের পাশে গাজীপুর উপজেলা পরিষদে এ বৈঠক হয়। এরপর আজ বৃহস্পতিবার আবার মেট্রোপলিটন সদর দপ্তরে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেলা আড়াইটার দিকে ডুয়েট ক্যম্পাসে ঢুকে নিজের কার্যালয়ে যান ভিসি।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. কাজী রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘নিজ কার্যালয়ে আসার পর শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন ভিসিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।’
খুলনা গেজেট/এএজে

