বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের কাছে বড় ধরনের বিমান বিক্রির চুক্তি করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৫ মে) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে ফেরার পথে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, বৈঠকে হওয়া এক চুক্তির অংশ হিসেবে চীন ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া চীনের সর্বোচ্চ ৭৫০টি বোয়িং বিমান কেনার সুযোগও থাকবে। তবে হোয়াইট হাউস কোন ধরনের বিমান কেনা হবে বা চুক্তির অন্য কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
চীনা সরকার কিংবা বোয়িং—কেউই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্রয়চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে এটি বোয়িংয়ের জন্য একটি বড় অগ্রগতি হবে, কারণ চীনের বাজার একসময় মার্কিন এই উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল।
বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেলি অর্টবার্গ ট্রাম্পের বেইজিং সফরে অংশ নেয়া মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। তারা চীনের কাছে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা বিক্রির উদ্দেশ্যে সফরে যোগ দেন।
ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তার প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্প পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনায় বোয়িংকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। গত বছর মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় কাতার ও সৌদি আরব থেকেও বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানের বড় অর্ডার পাওয়া গিয়েছিল।
ট্রাম্প আরও জানান, এই চুক্তির ফলে জিই অ্যারোস্পেসও লাভবান হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি চীনের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০টি বিমান ইঞ্জিন সরবরাহ করবে। জিই অ্যারোস্পেসের চেয়ারম্যান ও সিইও এইচ লরেন্স কালপও ট্রাম্পের সফরে অংশ নিয়েছিলেন। যদিও প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ বৈঠক থেকে বড় ধরনের চুক্তির স্পষ্ট ঘোষণা আসবে বলে আশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত অনেক বিষয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের ইন্দো-প্যাসিফিক কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোনি গ্লাসের বলেন, বোয়িং বা চীনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যা ও তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। সয়াবিন, এলএনজি কিংবা গরুর মাংসের মতো অন্যান্য বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট তথ্য দেখা যায়নি। আপাতত আমরা শুধু প্রেসিডেন্ট যা বলেছেন, সেটুকুই জানি।
খুলনা গেজেট/এনএম

