শনিবার । ১৬ই মে, ২০২৬ । ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সৌদি-কাতারকে নিয়ে ইরানে হামলা চালাতে চেয়েছিল আমিরাত!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের হামলার জবাবে যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নিতে সৌদি আরব ও কাতারকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে শুক্রবার (১৫ মে) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পরপরই আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপ করেন। এর মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ছিলেন।

এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে। ২০২১ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা আমিরাতই পাল্টা হামলার সবচেয়ে বড় ‘ভুক্তভোগী’ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দেশটিতে আঘাত হানে।

তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং অন্যান্য উপসাগরীয় নেতারা ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত উপসাগরীয় সামরিক হামলার জন্য মোহাম্মদ বিন জায়েদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ উপসাগরীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও আমিরাতকে একত্রিত করার বদলে বরং তাদের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

পরবর্তীতে জানা যায়, সৌদি আরব ও আমিরাত উভয়ই ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল, তবে তারা তা আলাদাভাবে করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের হামলাগুলো ছিল ‘পরিমিত’ বা সীমিত আকারের। পরে দেশটি দ্রুত তাদের মিত্র পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে শুরু করে।

অন্যদিকে, আমিরাত ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এপ্রিলের শুরুর দিকে আমিরাত উপসাগরে অবস্থিত ইরানের লাভান দ্বীপে হামলা চালায়। ঠিক ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিচ্ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং কয়েক মাসের জন্য স্থাপনাটির অধিকাংশ কার্যক্ষমতা অচল হয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতির সময় এমন হামলাকে পরিস্থিতির বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন