বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্য অন্য দেশের তুলনায় খুবই সামান্য বেড়েছে। এটির ফলে পণ্য মূল্যের ওপরে যে অভিঘাত তা ওয়ানটাইম স্পাইক। ওয়ানটাইম ইনক্রিজ। এ কারণে মূল্যস্ফীতি স্পাইলার হবে না এবং স্টিকি হবেও না।
তিনি বলেন, যে পরিমাণ ডেজেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে পণ্য মূল্য খুব বেশি বাড়ার কথা না। কেউ যদি বাড়তি মূল্য রাখে তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। তবে দাম বাড়বে বলে অনুমান করেও দাম বাড়িয়ে দেওয়া ঠিক না।
শুক্রবার (৮ ম) সিলেটে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদ ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, সেটি কমাতে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য একটি ডেনিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্দরের কাজ যাতে দ্রুত হলে ইউনিট প্রতি খরচ কমে আসবে।
তিনি বলেন, দুটি রাষ্ট্র কোনো চুক্তি করলে তা ইচ্ছা স্বাধীন পরিবর্তন করা যায় না। দুটি ব্যক্তির চুক্তি চট করে রদবদল করা যায় কিন্তু দুটি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তির মধ্যে বিভিন্ন ধারা থাকে। কিছু ধারা একটি পক্ষের অনুকূলে যায়। কিছু ধরা অন্যপক্ষের। দুইপক্ষের একটা উইন-উইন সিচুয়েশন থাকে। এটি মিলিয়েই তো চুক্তি। তবে চুক্তির বাস্তবায়নের সময় এমন কিছু যদি আমাদের সামনে আসে, যা দেশের স্বার্থের অনুকূল নয় এমন ধারা যদি পরিলক্ষিত হয় তা পরিবর্তনের সুযোগ চুক্তির মধ্যে আছে।
সরকারি কল কারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের কাজ ব্যবসা করা না। সরকার যেখানেই ব্যবসা করতে যায় সেখানেই ইনএফিসিয়েন্সির কারণে লোকসান হয়। এতে জনগণের টাকা অপচয় হয়। সবগুলো লোকসানি প্রতিষ্ঠান সরকার ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। এসব মিল ফ্যাক্টরি চালু করে যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব আহরণের ব্যবস্থা করা হয় সরকার সেই চেষ্টা করছে।
বাইশটিলায় ন্যাচারাল পার্ক র্নিাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদের ৪৩ একর জায়গা রয়েছে। এটিকে পর্যটক আকর্ষণীয় স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে ন্যাচারাল পার্কে ক্যাবল কার থাকবে। রোপ ব্রিজ থাকবে। এরকম অনেক কিছু থাকবে। শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য অনেক উপকরণ থাকবে। এটি নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান করেছে জেলা পরিষদ। এটি সিলেটের অন্য পর্যটক আকর্ষণীয় স্থান হবে। সরকার এতে অর্থায়ন করবে।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

