বৃহস্পতিবার । ৭ই মে, ২০২৬ । ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩

সংস্কারের অভাবে বিভাগীয় স্টেডিয়ামের বেহাল দশা, এক দশকেও মাঠে গড়ায়নি আন্তর্জাতিক ম্যাচ

একরামুল হোসেন লিপু

অযত্ন, অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ভগ্নদশা অবস্থায় পড়ে আছে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম। ভাঙাচোরা জরাজীর্ণ গ্যালারি, নষ্ট ফ্লাডলাইট। জায়ান্ট স্কিন ও স্কোর বোর্ডের করুণ দশা। সাইড স্ক্রিনের অভাব ও ড্রেসিংরুমের ভগ্নদশা দীর্ঘদিনের। ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে মিডিয়া সেন্টার, প্যাভেলিয়ন বিল্ডিংয়ের সমস্ত গ্লাস ভেঙে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রেসিডেন্ট বক্স ও ড্রেসিং রুম। এরপর থেকে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ না করায় অবস্থা আরো শোচনীয় হয়। সব মিলিয়ে দেশের ৭ম টেস্ট ভেন্যুখ্যাত স্টেডিয়ামটির বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে ক্রীড়া পরিষদের গাফিলতির কারণে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলোশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক খেলা থেকে বঞ্চিত এবং হতাশ হচ্ছে ক্রিকেট প্রেমী খুলনাবাসী। তবে খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতার খেলা আয়োজনের উদ্যোগ চলছে বলে জানালেন ভেন্যু ম্যানেজার মোঃ আলামিন।

জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ১৩ দশমিক ৮৮ একর জমি অধিগ্রহণের মধ্য দিয়ে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৩ সালে মাঠের পশ্চিম পাশে আংশিক গ্যালারি ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অফিস নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ১৯৯৯ সালে স্টেডিয়ামের চারপাশে একতলা গ্যালারি নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০০২ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিবি) ক্রিকেট খেলার উপযোগী মাঠ, পাঁচটি উইকেট, প্যাভেলিয়ন ভবন, মুভেবল সাইড স্ক্রিন ও বড়ো স্কোর বোর্ড নির্মাণ করে।

এরপর ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি ক্রিকেট দল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ বনাম এ,সি,সি কম্বাইন্ড অনূর্ধ্ব ১৯ দলের মধ্যকার খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (আইসিসি) কর্তৃক ভেন্যু অনুমোদন লাভ করে। একই বছর যুব বিশ্বকাপের ছয়টি একদিনের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রথমবারের মতো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে। ২০০৬ সালে এটি আন্তর্জাতিক ওডিআই ভেন্যুর স্বীকৃতি লাভ করে। ২০১২ সালে সপ্তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ের মধ্যকার টি-২০ চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি।

ঘূর্ণিঝড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত স্টেডিয়ামের আংশিক মেরামত করে সর্বশেষ ২০২৩ সালে বাংলাদেশ বনাম সাউথ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব ১৯ দলের তিনটি এক দিনের ওডিআই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। স্টেডিয়ামটির ধারণ ক্ষমতা বিশ হাজার দর্শক।

ভেন্যু ম্যানেজার আলামিন খুলনা গেজেটকে বলেন, ‘স্টেডিয়ামটিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানের খেলা বন্ধ রয়েছে। মাঠের পরিস্থিতি বা অবকাঠামো বড়ো ধরণের সমস্যার মধ্যে আছে। ক্রীড়া পরিষদ, বাংলাদেশ ক্রীড়া উন্নয়ন সংস্থা ও ক্রিকেট বোর্ড সম্মিলিতভাবে ছয় মাস বা এক বছরের ভিতর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতার একটা খেলা অর্গাগানাইজ করার প্রচেষ্টা নিচ্ছে। ক্রীড়ামন্ত্রী খুলনা, বগুড়া এবং ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সার্বিক উন্নয়নে সচেষ্ট হচ্ছেন। দ্রুতই তারা মাঠ পরিদর্শনে আসবেন।’

ভেন্যু কো-অর্ডিনেটর মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে স্টেডিয়ামটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে অবহিত করা হয়।

পর্যায়ক্রমে পরিষদের প্রকৌশলী, পরিচালক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে স্ট্রিমেট করলেও এ পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ক্রিকেট বোর্ডের এডহক কমিটির সভাপতি, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি আলি আসগার লবী (এমপি) উদ্যোগ নিচ্ছেন। উনারা পরিদর্শনে আসবেন। আগামী ৬ অথবা এক বছরের মধ্যে এখানে বিপিএলসহ আন্তর্জাতিক খেলার আয়োজন করবে এমনটাই জানতে পেরেছি।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন