বৃহস্পতিবার । ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ । ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩

আরও ৬ পাটকল যাচ্ছে বেসরকারি উদ্যোগে, চালু হবে চলতি বছরেই

গেজেট প্রতিবেদন

বন্ধ থাকা পাটকলগুলোর মধ্যে ৬টি চলতি বছরেই চালু হবে। আর সেগুলো বেসরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তারপরই খুলবে এসব পাটকল। এছাড়া, বন্ধ থাকা অন্যান্য পাটকলগুলো পর্যায়ক্রমে চালু বা ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে বন্ধ মিল-কারখানা চালু করা এবং বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়া মিলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে এসব কথা জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এমন উদ্যোগের ফলে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক অর্থ উপার্জন বাড়বে বলেও আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে বন্ধ থাকা পাটকলগুলোর অবস্থা, নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং অবশিষ্ট মিলগুলোতে কীভাবে দ্রুত বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায়—এসব বিষয় পর্যালোচনার জন্যই এ সভার আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে কিছু পাটকল বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেগুলোতে বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন, যা বেশ ইতিবাচক।

এ বছর পাটকল লিজ দেওয়া প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আরও জানান, আরও ছয়টি পাটকল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। প্রতিটি মিলেই এক হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছি। এছাড়া মিলভেদে প্রায় ২০০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগ আসবে বলে প্রাথমিক প্রক্ষেপণ আছে।

মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী অদূর ভবিষ্যতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন সব মিলই পুনরায় উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে ফিরবে কিছু পাট খাতে, আবার কিছু ভিন্ন শিল্পখাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে চালু হবে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও আমদানি বিকল্প শিল্প গড়ে উঠবে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, টেক্সটাইল ও পাটকলগুলো পরিদর্শন করছি ও সার্বিক পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা থেকে দ্রুত কাজ করছি। সরকার বন্ধ পাটকলগুলোকে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে পুনরুজ্জীবিত করে শিল্পগুরুত্বপূর্ণ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।

এ সময় সভায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিড)-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) এবং বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)-এর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি)’র অধীনে থাকা ২৫টি পাটকলের কার্যক্রম ২০২০ সালে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০টি মিল লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া হয় এর মধ্যে ১৪টি মিল এরই মধ্যে লিজ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৯টি মিল উৎপাদনমুখী হয়েছে এতে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।

খুলনা গেজেট/এমএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন