শনিবার । ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ । ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩

নববর্ষে গোপালগঞ্জে ১০ সন্ন্যাস চড়ক ঘুল্লী

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বড় ডোমরাশুর গ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হলো বাঙালির চিরায়ত লোকসংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ চড়ক পূজা। বাংলা নববর্ষ ও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবে প্রধান আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী ‘চড়ক ঘুল্লী’। তবে এ চড়ক ঘুল্লী মূল আকর্ষণ ছিলো দশ সন্ন্যাস চড়ক ঘুল্লী। যা দেখতে ভিড় করে হাজার হাজার মানুষ। আর এ চড়ক ঘুল্লীকে কেন্দ্র করে বসে গ্রামীণ মেলা।

জানা গেছে, পঞ্জিকা মতে বাংলা বছরের চৈত্র মাসের শেষে চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়ক ঘুল্লীর আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে এবার বাংলা নববর্ষে আনন্দ দিতে বৈশাখের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বড় ডোমরাশুর গ্রামের পঞ্চপল্লি বড় ডোমরাশুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় চড়ক ঘুল্লীর। এসময় ঢাকের বাদ্যের তালে মুখরিত হয়ে ওঠে মাঠ। তবে এ মেলার মূল আকর্ষণ ছিল দশ সন্নাস্য ঘুল্লী। এ ঘুল্লতে অংশ নেয়া ৮ যুবক ও দুই নারীর পিঠে লোহা দিয়ে তৈরি দুটি করে বড়শি ফোরানো হয়। পরে মাঠের মাঝখানে গাছের লম্বা খুঁটির দশ মাথায় রশি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় আট যুবক ও দুই নারীকে। পরে রশি দিয়ে বেঁধে ঘুরানো হয় কয়েক দফা। বিকাল থেকে গোধূলী পর্যন্ত চলে এ চড়ক ঘুল্লী। পুণ্য লাখের আশায় এ চড়ক ঘুল্লীতে অংশ নেন তারা।

এ চড়ক মেলা দেখতে গোপালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার শিশু-নারীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ ভিড় জামায়। অনুষ্ঠান স্থল পরিণীত হয় মিলন মেলায়। এ চড়ক ঘুল্লীকে কেন্দ্র করে বসে গ্রামীণ মেলা। খাবার, গহনা, মিষ্টির দোকান ও মাটির খেলনাসহ বসে বিভিন্ন দোকান।

চড়ক ঘুল্লী ও মেলার আয়োজক উজ্জ্বল ভক্ত জানান, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে দীর্ঘ বছর ধরে আমরা চড়ক পূঁজা ও চরক ঘুল্লীর আয়োজন করে আসছি। এটা আমাদের গ্রামের একটি ঐতিহ্য।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন