ভারতে অবস্থানরত স্ত্রী-সন্তানদের সাথে দেখা করতে ভারতে যেতে চেয়েছিলেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রথিকান্ত জয়ধর (৪৬)। এজন্য নিজের বসতভিটা আর জমিজমা বিক্রিও করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার সেই আশা আর পূরণ হলো না। ভারত যাবার আগেই ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করলো পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহেশপুর থানা পুলিশ পুলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে রথিকান্ত জয়ধরের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে। রথিকান্ত জয়ধর কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপর ইউনিয়নের পলোটানা গ্রামের দেবন্দ্রনাথ জয়ধারের ছেলে। তিনি ৪ সন্তানের জনক। এ নিয়ে ৭২ ঘন্টায় মহেশপুর সীমান্ত থেকে দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানাগেছে, ৮ বছর আগে রথিকান্ত জয়ধরের স্ত্রী উজ্জলী জয়ধর স্বামীর সম্মতিতে তার ৪ সন্তান রতন জয়ধর, নয়ন জয়ধর, রত্না জয়ধর ও রিয়া জয়ধরকে নিয়ে ভারতের কলকাতায় চলে যান। এর মাঝে রথিকান্ত কয়েকবার কলকাতায় বেড়াতে গিয়েছিলেন।
গত ১৪ এপ্রিল বসতবাড়িসহ জমিজমা বিক্রি করে টাকা নিয়ে রথিকান্ত জয়ধর কলকাতার উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা দেন। বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুর থানা থেকে রথিকান্ত জয়ধরের মৃত্যুর খবর তার ছোট ভাই রণজিৎ জয়ধরকে জানানো হয়। খবর পেয়ে রণজিৎ জয়ধর রাতেই মহেশপুরে গিয়ে তার ভাই রথিকান্ত জয়ধরের মরদেহ শনাক্ত করেন।
রণজিৎ জয়ধর বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে কলকাতায় যাওয়ার কথা বলে আমার ভাই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তবে সে কার সঙ্গে কোন পথে কলকাতায় যাবে সেটি আমাদের জানায়নি। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের মাধ্যমে রথিকান্তের মৃত্যুর খবর জানতে পাই।’
এর আগে গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই জায়গায় ইছামতী নদীর পাড় থেকে অজ্ঞাত এক মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন বিজিবির একটি টহল দল সীমান্তে টহলরত অবস্থায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে। সীমান্তের জিরো লাইন থেকে আনুমানিক ৫০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মরদেহটি পড়েছিল। ওই যুবকের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে রথিকান্ত জয়ধরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আমরা মরদেহের সাথে একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়ে রথিকান্তের ঠিকানা শনাক্ত করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রথিকান্ত জয়ধরের বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে কারা গুলি করেছে সেটি এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খান চমন-ই-এলাহী বলেন, ‘জমিজমা বিক্রি করে অনেকেই দালালের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার পথে প্রতারিত হয়। অনেকের আবার জীবন চলে যায়। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিত।’
রথিকান্ত জয়ধর কার মাধ্যমে কলকাতা যেতে চেয়েছিল বা তার প্রকৃত হত্যার রহস্য উন্মোচনের জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
খুলনা গেজেট/এনএম

