বৃহস্পতিবার । ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ । ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: মন্ত্রী আযম খান

গেজেট প্রতিবেদন

যারা ভুয়া কাগজ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কয়েকজন সংসদ সদস্যর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এছাড়া বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের যাদের মুক্তিযুদ্ধের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তাদের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সরবরাহ করলে পুনরায় ভাতা চালু করা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

মুক্তিযোদ্ধাদের বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্বান্ত দেওয়া হবে।’

বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ‘যন্তর-মন্তর ঘরের’ মাধ্যমে রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার হয়ে বের হয়েছিলেন বলে সংসদে অভিযোগ করেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সেটিও জানতে চেয়েছেন তিনি।

লিংকন বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে আমাদের এই গুম-খুন-আয়নাঘরের পাশাপাশি আরেকটা ঘর ছিল। সেটি হীরকরাজার দেশের যন্তর-মন্তর ঘরের মতো একটা ঘর ছিল। হীরকরাজার দেশে যেমন কৃষকদের যন্তরমন্তর ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। এরপর বের হওয়ার পর যে মন্ত্র শিখিয়ে দেওয়া হতো তারা সেটিই বলত। তেমনিভাবে আমার এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা, আমি প্রমাণসহ দিতে পারব— এমনও হয়েছে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কেউ চিনত না, রাজাকার হিসেবেও চিনত না।’

তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের পর তাকে রাজাকার বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আবার অনেকে সত্যিকার রাজাকার ছিলেন। কোনো এক অজানা কারণে তারা গ্রেপ্তার হওয়ার পরে কিছুদিন পর দেখা গেছে তারা মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বের হয়েছেন।’

সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন আরও বলেন, ‘আপসে যখন সমঝোতা হয়ে যায়, রাজাকারও মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বের হয়ে যেত ওই মেশিনের মাধ্যমে, আবার মুক্তিযোদ্ধা আপস না করলে রাজাকার হিসেবে বের হতেন। এই যে ১৭ বছরে ফ্যাসিস্টের আমলে যন্তরমন্তর ঘরের মাধ্যমে যেসব রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন এবং মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না?’

প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘অমুক্তিযোদ্ধা যারা বিভিন্নভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন, তাদের ব্যাপারে আমরা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় কাজ করছি। এ ধরনের মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের চাকরি এবং তাদের অবৈধ সুবিধা নিয়ে কাজ করছি। আশা করি, অল্প দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে এর সংখ্যাও বলতে পারব।’




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন