সোমবার । ৩০শে মার্চ, ২০২৬ । ১৬ই চৈত্র, ১৪৩২

জামায়াতের নোট অব ডিসেন্ট : ১৩৩ অধ্যাদেশের ১৫টিতেই দ্বিমত

গেজেট প্রতিবেদন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে মৌলিক বেশ কিছু বিষয়ে একমত হতে পারেনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে গণভোট, মানবাধিকার কমিশন ও বিচারবিভাগ পৃথকীকরণের মতো ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জামায়াতের পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।

রবিবার (২৯ মার্চ) সংসদের বিশেষ বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান তিনি। বৈঠকে দলটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আজকে প্রায় ২২টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে ১৪-১৫টি বিষয়ে আমরা একমত হতে পারিনি। আমরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। ওনারা সংখ্যাধিক্যের জোরে কিছু বিষয় পাস করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা আগের মতো দলীয়করণের লাইনে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগের বাছাই কমিটি—যেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে আনা হয়েছিল, সেগুলো তারা রহিত করে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্ব করার বিষয়েও আমরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছি।

সংবিধানে গণভোটের বিধান রাখা না রাখা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গণভোটের সঙ্গে গোটা জাতি জড়িত। ওনারা এটি বাতিল করার কথা বলছেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধান বহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করেছে, সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে—এটাই আমাদের মূল দাবি।

কমিটির বৈঠকে যেসব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০-১৫টি বিষয়ে আমরা কিছু সংশোধনীসহ একমত হয়েছি। বাকি যেগুলোতে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেগুলোতে আমরা ছাড় দেব না। সংসদে এসব নিয়ে ভোটাভুটি বা বিস্তারিত আলোচনা হবে।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন