বুধবার । ২৫শে মার্চ, ২০২৬ । ১১ই চৈত্র, ১৪৩২

জ্বালানি সংকটে থমকে গেছে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, বিপাকে হাজারো চালক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা জেলায় জ্বালানি তেলের সংকটে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল খাতে নেমে এসেছে স্থবিরতা। জেলায় প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল থাকলেও এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার চালক বর্তমানে তাদের যানবাহন চালাতে পারছেন না। ফলে হঠাৎ করেই আয়ের পথ বন্ধ হয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন এসব চালকরা, যারা এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রতিদিন দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না মোটরসাইকেল চালকরা। অনেক ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মাত্র ২শ’ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে মোটরসাইকেলে একাধিক ট্রিপ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বেকার বসে থাকতে হচ্ছে জেলায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের একটি বড় অংশের। প্রায় সপ্তাহের অধিক সময়ে মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করতে না পারায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এসব চালকদের।

ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক সদর উপজেলার ধুলিহর এলাকার আইয়ুব হোসেন জানান, পেট্রোলের অভাবে ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই মোটরসাইকেল চালাতে পারছি না। রোজার সময় পাম্পে তেল দিয়েছে ইফতারের একটু আগে। রোজা রাখায় ইফতারের পর কয়েকদিন পাম্পে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। পাম্পের কাছে পৌঁছানোর আগেই ঘোষণা আসে তেল শেষ। ফলে ঠিকমতো রোজগার করা সম্ভব হয়নি। যে কারণে এবার ঈদে ছেলে মেয়েদের জন্য নতুন পোশাকও কিনতে পারিনি।

জেলায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক সমিতির সভাপতি শাহিনুর রহমান জানান, সাতক্ষীরা জেলা প্রায় পাঁচ হাজার ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেল রয়েছে। শুধু মটরসাইকেল চালিয়ে এসব চালকরা তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু ঠিকমতো তেল না পাওয়ায় জেলার প্রায় চার হাজারের মতো মটরসাইকেল বর্তমানে বসতি রয়েছে। এর মধ্যে আশাশুনি লাইনের ৩শ’ গাড়ির মধ্যে প্রায় ২শ’ এর মতো গাড়ি বসতি আছে। এই সংখ্যা শ্যামনগরে আরও বেশি। অন্য উপজেলাতেও একই অবস্থা।

তিনি আরও বলেন, “আমরা তেল নেওয়ার জন্য পাম্পে তেলের গাড়ি আসার আগে থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ৩-৪ ঘণ্টা পর পাম্পে পৌঁছালে ২শ’ টাকার বেশি তেল দেয় না। এতে করে ঠিকমতো ভাড়া চালানো যায় না। আবার লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে তেল পাচ্ছেন না।”

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার জানান, ঈদের কারণে দু’দিন পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা তেল বিক্রি করতে পারেনি। গত সোমবার থেকে আবার তেল আসা শুরু হয়েছে। জ্বালানি তেল নিয়ে যে কোনো ধরনের অনিয়ম দূর করতে একাধিক ভিজিলেন্স টিম কাজ করছে। অভিযান চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পাম্পগুলোর রিজার্ভ ট্যাংকি, সরবরাহ চালান এবং বিক্রি ও মজুত রেজিস্ট্রার যাচাই করা হয়।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন