চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে ঈদুল ফিতরের দিনে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন- ছত্রপাড়া গ্রামের মৃত ইংরেজ কাজির ছেলে নাজিম কাজি এবং নাবু কাজির ছেলে শিমুল কাজি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের নামাজ শেষে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা দুপুরের দিকে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুপুর দেড়টার দিকে সংঘর্ষ চলাকালে নাজিম কাজি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, নাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত শিমুল কাজিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি লাল খাঁ এবং উপজেলা যুবদল সদস্য জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ‘জাহাঙ্গীর গ্রুপ’ প্রতিপক্ষ ‘কুবির কাজি গ্রুপ’-এর ওপর এই হামলা চালায়। হামলায় কুবির কাজিসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া একই দিন দুপুরে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ছত্রপাড়া মসজিদের সামনে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত কুমার ধর জানান, ‘সংঘর্ষের পর অন্তত ৫ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে আছিয়া বেগম ও শরিফুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় রেফার করা হয়েছে।’
খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বনি ইসরাইল পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি জানান, ‘ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’

