সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি নির্দেশে ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ করেছেন স্থানীয় শিক্ষকরা। কিন্তু সেই কাজ করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষককে ব্যক্তিগত তহবিল বা ধার-দেনা করে ক্যামেরা কিনে বসাতে হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ কাজের জন্য ইতিমধ্যে সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে; কিন্তু তা এখনও শিক্ষকদের হাতে পৌঁছায়নি।
নড়াইল জেলার কালিয়া ও লোহাগড়া কয়েকটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নির্দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ওপর মাত্র তিন দিনের মধ্যে ক্যামেরা স্থাপনের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। বাধ্য হয়েই শিক্ষকরা নিজেদের বেতনের টাকা বা ঋণ করে সেই ব্যবস্থা করেন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন পরেও তাদের সেই খরচ ফেরত দেয়া হয়নি।
একাধিক প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, “টাকা কোথায়, তার কোনো খোঁজ নেই। অথচ ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এই পবিত্র রমজান মাসে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। কে কার কথা শুনবে? আমাদের ডাকও নেই, কান্নাও নেই।”

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী এ কাজের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ইতোমধ্যে উপজেলা অফিসে চলে এলেও তা শিক্ষকদের মাঝে বিতরণে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। তবে ঠিকাদারি প্রথার নামে কেন শিক্ষকদের দিয়ে এই কাজ করানো হলো এবং অর্থ পরিশোধে কেন এত দেরি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষক সমাজ বলছেন, “শিক্ষকদের যদি শ্রেণিকক্ষ থেকে টেনে এনে ঠিকাদারিতে নামানো হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা গণিত, ইংরেজিতো দূরের কথা, বাংলাও ঠিকমতো পড়তে পারবে না। জাতিকে মূর্খতার হাত থেকে বাঁচাতে হলে শিক্ষকদের ক্লাসেই থাকতে দিতে হবে।”
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরা। তাদের দাবি, অবিলম্বে তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করে এই রোজার মাসে স্বস্তি দেয়া হোক এবং ভবিষ্যতে শিক্ষকদের দিয়ে ঠিকাদারির কাজ না করানোর নির্দেশ জারি করা হোক।
খুলনা গেজেট/এনএম

