এ বছরের মধ্যে ফেব্রুয়ারির পর প্রিয় স্বদেশে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। আকাক্সক্ষা ছিল, আইনশৃঙ্খলা বেশ চাঙ্গা থাকবে। যেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি সেখানেই অ্যাকশন। কিন্তু হাল সময়ের আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে। এ বিষয় নিয়ে সাধারণ নাগরিকরা দারুণভাবে উদ্বিগ্ন। ইদানীং আইনশৃঙ্খলার ঢিলেঢালা নাজুক অবস্থা, নাগরিক জীবনকে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলেছে। প্রত্যেক নাগরিকের জীবনে অস্বস্তি বেড়েই চলেছে। সাধারণ নাগরিকদের ভাবনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে ক্রমশ হতাশা বাড়ছে। দেশটি স্বাধীনতার পর ৫৪ বছর অতিক্রম করে ৫৫ বছর চলছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলার তেমন উন্নতি না হওয়ায়, নাগরিক জীবনে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার অন্ত নেই।
এ প্রসঙ্গে রাজধানী ঢাকার একটি খবর আলোচনা করা দরকার। ‘প্রেম প্রত্যাখ্যানের জেরে রাজধানীতে স্কুল ছাত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা, যুবক গ্রেপ্তার।’ এই শিরোনামের খবরের ভেতরের কাহিনি যথেষ্ট সংক্ষিপ্ত অথচ রোম হর্ষক। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে হিংস্র যুবক ইমন তার পছন্দের নারী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি (১৪) নাম্নী এক কিশোরী, অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে হামলার শিকার মেয়েটি প্রাণ হারায়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিংস্র যুবক সিয়াম ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীরা প্রতিকার কতটুকু পাবে স্পষ্ট করে জানা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিন্তির হত্যাকারী যুবক ঘাতক ইমন স্বীকার করেছে যে, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিরোধ এর জেরে সে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আলামত হিসেবে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরি এবং রক্তমাখা জামা ও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঢাকার হাজারীবাগ থানার চরকঘাটা এলাকার একটি পাকা সড়কে আগে থেকে অনুসরণ করা ওত পেতে থাকা এই ঘাতক ছুরি দিয়ে নির্মমভাবে বিন্তির ঘাড়ে, পিঠে বেপরোয়া ভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
এ ধরনের নৃশংস ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক সিয়াম ওরফে ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পরের দিন, গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে কলাবাগান থানার কাঁঠালবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতককে পাকড়াও করা বা গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় ইমনের কাছ থেকে রক্তমাখা ছুরি, রক্তমাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট এবং একটি মোবাইল সেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক ইমন স্বীকার করেছে, তারা একই স্কুলে পড়তো। তাদের মধ্যে এক সময় প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সম্প্রতি বিন্তি নাম্নী ওই ছাত্রী ইমনের সাথে সম্পর্ক রাখতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায়, তাৎক্ষণিক ক্ষোভ থেকে ঘাতক এ ধরনের নির্মম ও নৃশংস ঘটনা ঘটায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিন্তির (১৪)পরিচয় হিসেবে জানা গেছে, সে ছিল রায়ের বাজার উচ্চবিদ্যালয় এর অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বাবা বিল্লাল হোসেনের দুই সন্তানের মধ্যে বিন্তি ছিল বড়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিন্তীর মা বলেন, ঘটনা স্থলের প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, সিয়াম নামের এক যুবক তাকে কুপিয়েছে। এই ঘাতক যুবক গত দুই তিন বছর ধরে বিন্তিকে মোবাইলে ডিস্টার্ব করতো। বিষয়টি জানতে পেরে বিন্তীর মা ঘাতক সিয়ামকে যথেষ্ট বকাবকি করে। এই ঘটনার ক্ষোভ হিসেবে তার মেয়েকে ঘাতক যুবক ধারালো ছুরির আঘাতে হত্যা করেছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, এই ঘাতক এমন নির্মম নৃশংস হত্যার স্পর্ধা বা দুঃসাহস পেলো কোথায়? তাকে কি কেউ নেপথ্য থেকে ইন্ধন জুগিয়েছে কিনা ভাববার বিষয়। ঢাকা মহানগরের ওই এলাকায় এ হেন মধ্যযুগীয় নির্দয় হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটানোর মাস্টারমাইন্ড কে বা কারা? মনে করা হচ্ছে ঘাতকের পিছনে একটি শক্তিশালী গ্যাং রয়েছে, তাদেরকে খুঁজে বের করা দরকার। আর এ খুঁজে বের করার দায়িত্ব পুলিশকেই নিতে হবে। তাহলে ওই এলাকায় আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। দেশের সচেতন পর্যবেক্ষক মহলের জিজ্ঞাসা, ঘটনা সংঘটনের পর পুলিশ তৎপর হওয়া এবং ঘটা করে অভিযান চালানোর ও গ্রেপ্তার হওয়া নাটক বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলতে হলে ওই এলাকার দুর্বৃত্ত গ্যাংকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো দিলে চলবে না। অন্যথায় দুর্বৃত্ত চক্র আরও দুর্বার হয়ে উঠবে। এখানে পুলিশ ও আদালতে বিচারকের ভূমিকা জোরদার করা হলে, বিশ্বাস রাখা যায়, অপরাধীরা কোনোভাবে পার পাবে না।
মানুষের মুখে মুখে একটা কথা বলাবলি হচ্ছে, একটি নিরীহ ইস্কুল ছাত্রী নিহত হওয়ার পর তথাকথিত মহিলা সুশীল সমাজের শাহাবাগী নারীরা কোথায় এখন? এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে নারীদের কোনো মানববন্ধন তো দেখা যাচ্ছে না। জনমনে জিজ্ঞাসা, এখন সে নারী বিপ্লবীরা কোথায়? তারা কি কাছিমের মতো গর্ত থেকে বের হতে পারছে না? কথায় বলে রোম পোড়ে নীরব বাঁশি বাজায়। আমাদের দেশের নারীরা কি এখন ঘুমিয়ে আছে, কোনো একটা ঘটনা ঘটার আগেই যারা গেল গেল বলে চিৎকার করে! একটা কথা বলতে হবে, অতীতে যাই ঘটুক না কেন, বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ বিভাগকে স্পর্শকাতর এই মামলায় অপরাধীদের কঠিন শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। বিগত দেড় দশক সময় ধরে অপরাধ সংঘটিত হলে কোনো নিশ্চিত বিচারের মুখ দেখে নাই। সাগর রুনি হত্যাকাণ্ড, নারায়ণগঞ্জের ত্বকী হত্যাকাণ্ড, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে সোহাগি জাহান তনু হত্যাকাণ্ড আজও পর্যন্ত নিশ্চিত বিচারের মুখ দেখে নাই।
কি বিচিত্র প্রশাসন কি বিচিত্র তদন্ত কি বিচিত্র বিচার! হায়রে বাংলাদেশ! বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে!
বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলীয় জনপদ বন্দরনগরীর আরেকটি সংবাদ চিত্র তুলে ধরি। মহানগরী খুলনার আফিল গেটে ব্যবসায়ীকে ফিল্মি স্টাইলে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ২৬শে ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর খান জাহান আলী থানাধীন আফিল গেট এলাকায় বিসমিল্লাহ মোটর গ্যারেজে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে শেখ সোহেল (৪৫) নামের ওই ব্যবসায়ীকে। তিনি ঘের ব্যাবসার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যাবসাও করতেন। তিনি ফুলতলা উপজেলার গিলাতলা এলাকার মিজানুর রহমান ওরফে বাচ্চু শেখের পুত্র। পুলিশ ঘটনা স্থল থেকে চারটি গুলির খোসা ও দুইটি তাজা অব্যবহৃত বুলেট উদ্ধার করেছে।
এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ২৬শে ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় নিহত সোহেল নিজের মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য এসে বসেছিলেন। ঐদিন বিকেল আনুমানিক তিনটা দশ মিনিটের সময় তিনি ওইখানে বসেছিলেন। হঠাৎ করে একটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা ২ যুবক ঘটনা স্থলে এসে শেখ সোহেলকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে ছুড়তে এলাকায় তাসের রাজত্ব কায়েম করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সোহেল ঘটনা স্থলেই প্রাণ হারায়। পরে ঘাতকরা মাথায় হেলমেট পরা অবস্থায় দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। দুর্বৃত্তদের আকস্মিক গুলা গুলির খবর পেয়ে খানজাহান আলী থানাপুলিশ, ডিবি, সিআইডি পুলিশের ফরেনসিক দল ঘটনা স্থলে পৌঁছে দ্রুত বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
খান জাহান আলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহত শেখ সোহেল একটি চরমপন্থী রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় এবং আড়ংঘাটা থানায় দুটি হত্যা মামলা রয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে এ ঘটনাটি ঘটায় জনমনে প্রবল আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাগুলো সূক্ষ্মভাবে খতিয়ে দেখছে। ঘটনার ভিডিয়ো ফুটেজ সংগ্রহ হয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কিংবা অন্য কোনো কারণে সোহেলকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিয়ো ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করেছে। অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের এসি (নর্থ) শফিকুর রহমান বলেছেন নীল রঙের মোটরসাইকেলে দুজন লোক শহরের দিক থেকে এখানে এসে সোহেলকে গুলি করে হত্যা করে আবার একই দিকে চলে যায়। ঘাতকদের মাথায় হেলমেট পরা ছিল। নিহত সোহেলের শরীরে তিনটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। একটি বুকে এবং দুটি সরাসরি মাথায় লেগেছে। এছাড়াও সোহেলের শরীরের আর কোথাও কোনো গুলি আছে কিনা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পাশের পেট্রোল পাম্প থেকে যে ভিডিয়ো ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। কে বা কারা খুন করেছে সোহেলকে তা তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সঠিকভাবে উদ্ঘাটন করা হবে।
খুলনায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আমরা বহুবার কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছি, অপরাধী গ্যাং অর্থাৎ দুর্বৃত্তদের সঠিক তালিকা তৈরি করা হোক। আফিল গেটের জনকোলাহল পূর্ণ এলাকায় যদি পুলিশ সাক্ষী গোপালের ভূমিকা পালন করে, তা অত্যন্ত পরিতাপের ও নিন্দনীয়। এধরনের গা ছাড়া ভাব কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। প্রকাশ্য দিনের বেলায় এ ধরনের ঘটনায় ওই এলাকার জনমনে দারুন আতঙ্ক বিরাজ করছে। আফিল গেটে হত্যার রেশ না কাটতেই একদিনের মধ্যে খুলনার দিঘলিয়ায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে যুবদল নেতা মুরাদ খাঁকে হত্যা করেছে। এই ঘটনাটি ও প্রকাশ্য দিবালোকে বিকেলের দিকে ঘটেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে সেনহাটি ইউনিয়নের বকশি বাড়ি কবরস্থানের সামনে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটায়। মুরাদ দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও মনসুর খার ছেলে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশের মতে, তুচ্ছ ঘটনায় বাগ বিতণ্ডার জের ধরে দুঃসাহসী দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটায়। শুক্রবার, ২৭ এ ফেব্রুয়ারি, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিঘলিয়া থানা ছাত্রদল নেতা সহ ৪-৫ জন হঠাৎ করে মুরাদের গতি রোধ করে এবং তার উপর পাশবিক প্রক্রিয়ায় বীভৎস হামলা চালায়। এ ধরনের আকস্মিক ঘটনায় আত্মরক্ষার জন্য মুরাদ বকশি বাড়ি মসজিদ সংলগ্ন একটি দোকানে আশ্রয়ের চেষ্টা করলে, সেই দোকানের তালা ভেঙে দোকানের ভেতর ঢুকে ঘাতকরা পুনরায় হামলা করে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়, অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় নিন্দের ঝড় বয়ে যাচ্ছে কিন্তু ঘাতকদের সম্পর্কে সত্যিই কী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এটাই জনগণের প্রশ্ন?
দেশের পুলিশ প্রশাসনকে যদি জবাবদিহিতার আওতায় না আনা হয় তাহলে জনজীবনে অস্বস্তি নেমে আসবে তা হবে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য দারুণ নাজুক পরিস্থিতি! কর্তৃপক্ষের লোকজনেরা তা কী ভেবে দেখেছেন? সারাদেশের চিত্র বাদই দিলাম খুলনার চিত্র কোনোভাবে পরিবর্তন হচ্ছে না। এর কারণটি অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।
খুলনা গেজেট/এনএম

