‘দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলটির শীর্ষ নেতারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, গণভোট বাস্তবায়ন ছাড়া বর্তমান সরকারের সামনে অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প নেই। তিনি দাবি করেন, দেশের জনগণ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের পথে গণভোটই হতে পারে একটি গণতান্ত্রিক সমাধান।
একই সঙ্গে তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি যদি আবার ফ্যাসিবাদের দিকে ফিরে যেতে চায়, তাহলে দেশের জনগণ তাদের প্রতিহত করবে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে দেশের রাজনীতিতে যে স্বৈরাচারী প্রবণতা দেখা গেছে, তা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির অভিসংশনের প্রস্তাব উত্থাপনের বিষয়ে ১১ দলীয় জোট ইতিবাচক রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জোটভুক্ত দলগুলো এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে কাজ করছে এবং সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত ১০ দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় সমাবেশ, ইফতার মাহফিল, দোয়া অনুষ্ঠান, ডকুমেন্টারি ও চিত্রপ্রদর্শনী। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডির আবাহনী ক্লাব মাঠে কেন্দ্রীয় সমাবেশ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে নাহিদ ইসলাম, মামুনুল হক, ঢাকা-১২ আসনের এমপি উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত এক বছরে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলন ও সংগঠন বিস্তারের কার্যক্রম নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি থাকবে চিত্রপ্রদর্শনী।
এনসিপি জানিয়েছে, জুলাই শহিদ পরিবার, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এবং সারাদেশের জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়েও ধারাবাহিক ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হবে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২ মার্চ চট্টগ্রাম, ৩ মার্চ কুমিল্লা, ৪ মার্চ সিলেট, ৫ মার্চ ময়মনসিংহ, ৬ মার্চ ঢাকা, ৭ মার্চ ফরিদপুর, ৮ মার্চ বরিশাল, ৯ মার্চ খুলনা, ১০ মার্চ রাজশাহী এবং ১১ মার্চ রংপুরে বিভাগীয় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১২ মার্চ ঢাকা মহানগর, ১৩ মার্চ ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ১৪ মার্চ ঢাকা মহানগর দক্ষিণে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হবে।
দলটির নেতারা জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারা তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে চান। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক সংস্কার, জবাবদিহিতা ও সাংবিধানিক কাঠামোর প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান আরও সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

