বুধবার । ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২

‘তৃণমূল থেকে বৃহত্তর পরিসরে নেতৃত্ব দিতে শিবিরকে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে’

গেজেট প্রতিবেদন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী দিনের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের জন্য ইসলামী ছাত্রশিবিরের জনশক্তিকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের দিনব্যাপী প্রথম সাধারণ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

জামায়াত আমির স্পষ্ট করে বলেন, তৃণমূল থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বৃহত্তর পরিসরে নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্যতা অর্জনে নেতাকর্মীদের গড়ে তুলতে হবে এবং নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা চলবে না।

রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ-২০২৬ এর দিনব্যাপী প্রথম সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সকাল ৮টায় পবিত্র দারসুল কুরআনের মাধ্যমে অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দারসুল কুরআন পেশ করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শিবিরের শহীদ মো. রেজবুন হক (প্লাবন)-এর পিতা মো. আজাদুল ইসলাম। অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।

সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিজয়ের ধারাবাহিকতায় নৈতিকতার ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। ছাত্রশিবিরের দৃশ্যমান শক্তি ও মর্যাদা জায়গা হলো নৈতিকতা। সুতরাং নৈতিকতার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় বা আপস গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নামাজ হলো নৈতিকতার ভিত্তি। কোনো অজুহাতেই নামাজের ব্যাপারে শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। যুবক বয়স থেকেই যারা গোপন ও প্রকাশ্য নফল ইবাদতে অভ্যস্ত হন, আমৃত্যু তার ব্যবহারিক জীবনে এর প্রভাব থেকে যায়। মানুষের নৈতিক সৌন্দর্য যখন অন্যদেরকে আকৃষ্ট করে, তখন পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাদের বিজয়কে রোধ করতে পারবে না।’

উদ্বোধনী বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ছাত্রশিবির থেকে শুরু করে যুগে যুগে ইসলামী আন্দোলনের কাজ করতে গিয়ে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন, তাদের স্মরণ করেন। কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কার্যকরী পরিষদ সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের সংগঠনের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক কাঠামো। এই পরিষদের সদস্য হিসেবে প্রত্যেককে সর্বপ্রথম নিজেদের আত্মতত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় সভাপতিকে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে হবে।”

কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ‘আগামী দিনের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকরী পরিষদকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সংগঠনের জনশক্তিদের নৈতিক মান উন্নয়ন, আদর্শিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি এবং চারিত্রিক পবিত্রতা সংরক্ষণে নিবিড় তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জনশক্তিদের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি, সমসাময়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি গড়ে তোলা এবং তাদের দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত, দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

দিনব্যাপী এ অধিবেশনে কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ও শপথ গ্রহণ, বার্ষিক পরিকল্পনা ২০২৬ প্রস্তাবনা পেশ, পর্যালোচনা ও অনুমোদন, সেক্রেটারিয়েট গঠন এবং অঞ্চল পরিচালক নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়াও বিদায়ী কার্যকরী পরিষদ সদস্য ভাইদের বক্তব্য, মেহমানের বক্তব্য, ইহতেসাব, কেন্দ্রীয় সভাপতির সমাপনী বক্তব্য, দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অধিবেশন সমাপ্ত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি), ড. রেজাউল করিম এবং জাহিদুল ইসলাম।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন