শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি শুরু করেছে সেতু বিভাগ

গেজেট প্রতিবেদন

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) পদ্মা সেতু সরেজমিনে পরিদর্শনে যান সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পৌঁছালে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী জনাব কাজী মো. ফেরদাউসসহ কর্তৃপক্ষের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

সেতুমন্ত্রী পদ্মা সেতু এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন এবং টোল বুথ পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণের সড়কপথে যাতায়াত নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিময় করতে সদয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।’ তিনি যেকোনো মূল্যে আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারাদেশের মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

তার নির্দেশনা মোতাবেক সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল রাখার লক্ষ্যে রমজানের শুরু থেকে ঈদ পরবর্তী আরও ১৫ দিনসহ সর্বমোট ৪৫ দিনের একটি সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি ঈদ উপলক্ষে পদ্মা সেতুতে যানবাহনের সম্ভাব্য অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলায় সব টোল লেন সার্বক্ষণিক সচল রাখা, পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েন এবং টোল আদায় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় সেতু সচিব সব টোল বুথের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) লেনসমূহ সার্বক্ষণিক সচল রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন, যাতে টোল আদায় কার্যক্রম আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয় এবং যানজটের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। তিনি এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রদান করেন।

এ ছাড়াও তিনি যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেকার, ফায়ার ভেহিক্যাল ও অন্যান্য জরুরি সেবা যান প্রস্তুত রাখা, ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় ও কার্যকর যোগাযোগ বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিদর্শনকালে সেতু সচিব মাওয়া প্রান্তে চলমান বাস-বে নির্মাণ কাজ আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরের আগেই সম্পন্ন করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘বাস-বে চালু হলে যাত্রী ওঠানামা আরও সুশৃঙ্খল হবে, মূল সড়কে যানজট হ্রাস পাবে এবং সার্বিকভাবে ঈদযাত্রা আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।’

এ ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে পদ্মা সেতু সংলগ্ন সড়কের পার্শ্ববর্তী সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা সকল দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়, যাতে যানবাহন চলাচলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

খুলনা গেজেট/এমএনএস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন