মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বাণীতে তিনি মাতৃভাষা বাংলার অধিকার আদায়ে আত্মোৎসর্গকারী ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক স্মৃতিবিজড়িত ও গৌরবময় দিন। এ দিনে তিনি ভাষা শহিদ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা সকল শহিদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও দুই অংশের ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা উপেক্ষা করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার সিদ্ধান্তে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই জাতিসত্তা, স্বকীয়তা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার চেতনা দৃঢ় হয়। পরবর্তী সময়ে স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অমর একুশের চেতনা যুগিয়েছে অফুরন্ত প্রেরণা ও সাহস।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৯ সালে শহিদ দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে, যা জাতি হিসেবে বাংলাদেশের অন্যতম গৌরবময় অর্জন। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় একুশের চেতনা আজও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ভাষা একটি জাতির অস্তিত্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রধান ধারক ও বাহক। বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার যথাযথ চর্চা ও মান সংরক্ষণে সবাইকে আরও যত্নবান হতে হবে। একই সঙ্গে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে বাংলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মহান একুশের চেতনাকে ধারণ করে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ জাগ্রত হবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ নিশ্চিত হবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

