পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার আগামী মে মাস থেকে দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি। সভায় জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতি বছর পাঁচ কোটি করে মোট ২৫ কোটি গাছ লাগানোর অঙ্গীকার রয়েছে। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য প্রতি বছর পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ করা। চলতি বছর হয়তো পুরো পাঁচ কোটি চারা প্রস্তুত নেই, তবে আগামী বছর তা পুষিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃক্ষরোপণের জন্য প্রয়োজনীয় চারা সংগ্রহের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তরগুলোতে থাকা চারা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগেও যে চারা রয়েছে, সেগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজে লাগানো হবে। প্রয়োজন হলে বেসরকারি খাতের নার্সারি থেকেও চারা সংগ্রহ করা হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরকে চারা প্রাপ্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রোপণের সময়সীমা সম্পর্কে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, মে মাসের মধ্যেই কার্যক্রম শুরু করতে হবে। কারণ বর্ষা মৌসুম শুরুর আগ পর্যন্তই রোপণের উপযুক্ত সময় থাকে। জুলাইয়ের পর সাধারণত চারা রোপণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সর্বোচ্চ সংখ্যক চারা রোপণের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
গাছ লাগানোর সম্ভাব্য স্থান সম্পর্কে মন্ত্রী বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, চরাঞ্চল, নদীর দুই তীর ও বাঁধ, সড়কের পাশ, পার্বত্য অঞ্চল, ম্যানগ্রোভ এলাকা এবং লবণাক্ত উপকূলীয় অঞ্চল এমন ৭ থেকে ৮টি অগ্রাধিকারভিত্তিক এলাকায় বৃক্ষরোপণ করা হবে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে জলাধার ও নদীতীর এলাকায় সবুজায়ন জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়; এটি পরিবেশ পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আলাদা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
সরকারের আশা, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশের বনাঞ্চল বৃদ্ধি পাবে, কার্বন শোষণ সক্ষমতা বাড়বে এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

