আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজ, রসুন ও কাঁচা মরিচের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, পেঁয়াজে দাম ১৩ থেকে ১৫ টাকা এবং রসুনের দাম বেড়েছে ৪৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। রমজানে বেশি দাম পাওয়ার আশায় কৃষকরা খেত থেকে পেঁয়াজ ও রসুন উঠানো কমিয়ে দেওয়ায় হঠাৎ করে সরবরাহ ঘাটতির কারণে বাজারে মশলা জাতীয় এই পণ্য তিনটির দাম বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে স্থিতিশীল রয়েছে চালের দাম। স্বাভাবিক রয়েছে সবজির বাজার।
গতকাল সোমবার সকালে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজারের পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৫০ টাকা কেজি, নতুন রসুন ৯৫ থেকে ১০০ টাকা এবং পুরাতন রসুন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা কেজি। এছাড়া কাঁচা মরিচ প্রকার ভেদে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজের নতুন পেঁয়াজ ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা, নতুন রসুন ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং পুরাতন রসুন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে কাঁচা মরিচের দাম ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি। এছাড়া পাইকারি বাজারে আদা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। শুকনা মরিচ সাড়ে ৩০০ টাকা, গোল মরিচ ১১০০ টাকা, জিরা প্রকারভেদে ৬০০ টাকা থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা কেজি। তবে স্থিতিশীল রয়েছে চালের বাজার।
সুলতানপুর বড়বাজারে ঈদের জন্য মশলা জাতীয় পণ্য কিনতে আসা কাটিয়া কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ জানান, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজ, রসুন ও কাঁচা মরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ফলে আমাদের মত সাধারণ ক্রেতাদের রমজানের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সুলতানপুর বড়বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা নগরঘাটা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সবুর জানান, “রমজান মাসে দাম বেশি পাওয়ার আশায় কৃষকরা ক্ষেতের পেঁয়াজ উঠানো হঠাৎ করে কমিয়ে দিয়েছেন। যে কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আমাদেরকে দাম বেশি দিয়ে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। ভোটের কয়েকদিন আগের তুলনায় এখন কেজিতে ১২ থেকে ১৪ টাকা বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে।”
বাজারে পাইকারি কাঁচা মরিচ বিক্রেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তুহিন জানান, “এক সপ্তাহ আগেও কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। সে সময় প্রতিদিন আমার আড়তে ২০ থেকে ২৫ বস্তা করে কাঁচা মরিচ বিক্রি হতো। কিন্তু এখন সেখানে ৫ থেকে ৬ বস্তার বেশি পাচ্ছি না।”
এই বাজারের সব কাঁচা মরিচ বাইরের জেলা থেকে আসে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে সাতক্ষীরার বাজারের কাঁচা মরিচের সরবরাহ কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। যে কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়ে গেছে।”
সুলতানপুর বড়বাজারের মেসার্স মোল্যা ভাণ্ডারের মালিক পাইকারি বিক্রেতা মোঃ আব্দুল আজিজ মোল্যা জানান, “রমাজন মাসে মশলা জাতীয় পণ্যের চাহিদা সবসময় বেশি থাকে। অনেকেই রোজার বাজার অগ্রিম করার কারণে পেঁয়াজ ও রসুনের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। যে কারণে চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কম থাকায় মশলা জাতীয় এই পণ্য দু’টির দাম বেড়েছে।”
তবে রোজা শুরুর কয়েকদিন পর সরবরাহ বাড়লে দাম আবার কমে আসবে বলে জানান তিনি।
খুলনা গেজেট/এনএম

