সাত সমুদ্র আর তেরো নদী পার হয়ে চীন দেশ থেকে বিমানে উঠে এসেছে সে দেশের সাদা গোলাপ। সাথে আছে ঢাকার সাভারের লাল গোলাপ, ঝিনাইদহ ও যশোরের গদখালীর লাক্স পিং নামক গোলাপ। পিকআপ ভর্তি হয়ে ফারাজীপাড়াস্থ ফুল মার্কেটে এসেছে রজনিগন্ধা, গ্লাডিয়াস, জারবরা ও গাদা ফুল। আনন্দ-উৎসবে প্রিয়জনের জন্য ফুল কিনছে সব বয়সি সব ধর্মের নারী-পুরুষ। চীনের মাটিতে উৎপাদিত প্রতিটি সাদা গোলাপের দাম ধরেছে ৫০ টাকা।
আজকের বিশ^ ভালবাসা দিবস উপলক্ষে ফুল মার্কেট সেজেছে নতুন সাজে। আলোর ঝলকানিতে যে-কোন ক্রেতাকে আকর্ষণ করছে। দোকানের সামনে নানা জাতের নানা রকমের ফুল। দোকানের কর্মচারীরা ক্রেতাদের ভিড় সামলতে হিমশিম খাচ্ছে। মার্কেটের সামনের সড়কে ভিড় বিকেল থেকে। ফুল ক্রেতাদের ভিড় ফরাজীপাড়াস্থ ফুল মার্কেট, বয়রা মোড়, নিউমার্কেট, খালিশপুর, দৌলতপুর, খুবি ক্যাম্পাস ও পীর খানজাহান আলী (রঃ) সেতুর প্রবেশদ্বারে। এ উপলক্ষে চীন থেকে হযরত শাহাজালাল বিমান বন্দর হতে পিকআপ যোগে পিংক, মেজেন্ডা, সাদা, লাক্স পিংক, লিলি, অর্কিড, কিচেন কিমাস, জিপসি, যশোরের গদখালী, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, সাভার থেকে লাল গোলাপ, চায়না জাতের গোলাপ, জারবরা, রজনিগন্ধা, গ্লাডিয়াস, গাদা ফুল ও কামিনী ফুলের পাতা এসেছে ক্যারেট বোঝাই করে। মার্কেটের দোকানে কর্মচারীরা ক্রাউন, হাতের ব্রেসলেট ও সিঙ্গেল গোলাপ বিক্রি করছেন সেই বিকেল থেকে।
করোনা পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, ২৪ এর জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, অতিবৃষ্টি ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে ফুল মার্কেটের মন্দাভাব ছিল। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে কাঙ্খিত বিকিকিনি হয়নি। তোড়া ও মালা বিক্রির রেওয়াজ থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সে আশার গুড়ে বালি পড়ে। মন্দা কাটিয়ে উঠতে ফুল মার্কেটের ভ্যালেনটাইন, পুস্পমালা, রজনিগন্ধা, নাইটকুইন, স্বপ্নের ঠিকানা, বিয়ের ফুল, বিসমিল্লাহ ফুলঘর, আর্কিড গ্যালারি, বেলী গার্ডেন, ফুলের বাসর, দোলন চাপা, মালঞ্চ, ফুলেশ^রী ও পুস্পালয় নামক প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী গতকাল শুক্র ও আজ শনিবার স্থানীয় মার্কেটে ২০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হবে।
ফুল মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ নাজমুল হুদা প্রসঙ্গ নিয়ে বলেছেন ‘ব্যবসায়ীরা চীনের সাদা গোলাপের ওপর আগ্রহ দেখিয়েছে। কেনা-বেচা বেশ জমজমাট। গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেট খোলা থাকবে বলে তিনি আশাবাদী। ক্রাউন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে গতকাল সন্ধ্যা থেকে। ক্রেতার আকর্ষণের জন্য দোকানে সামনে শোভাবর্ধণ করছে।’
খুলনা গেজেট/এনএম

