শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২

নাম বিভ্রাটে ভোট দিলেন অন্যজন, শেষ পর্যন্ত টেন্ডার ভোটে রক্ষা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনের সদর উপজেলার মাছখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একই নাম ও পিতার নাম হওয়ায় বিভ্রাটে একজনের ভোট দিয়ে গেছেন অন্যজন। তবে একে জালিয়াতি নয়, বরং ‘ভুল’ ও ‘নামের মিল’ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। শেষ পর্যন্ত প্রকৃত ভোটারকে তার ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে ‘টেন্ডার ভোট’ গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, মাছখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৩ নং বুথের এক নারী ভোট দিতে এলে তার নাম শিল্পী খাতুন এবং পিতার নাম আব্দুল আজিজ হিসেবে ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলে যায়। প্রার্থীর এজেন্টরা তাকে শনাক্ত করলে তিনি ভোট প্রদান করেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর একই নাম ও একই পিতার নাম সম্বলিত প্রকৃত ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত হলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে আসা নারী ভুলবশত এই বুথে ভোট দিয়ে গেছেন।

শিল্পী খাতুন বলেন, আমি ভোট দিতে এসে দেখি আমার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। পরে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখানোর পর আমার টেন্ডার ভোট গ্রহণ করা হয় এবং তা একটি খামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। শুনেছি এই ভোট গণনা হয় না। নামের মিল থাকলেও পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন ছিল।

ওই কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্ট মোছা. জেসমিন বলেন, নাম ও পিতার নাম মিলে যাওয়ায় আমরা তাকে শনাক্ত করি। সে সময় কোনো ভুল মনে হয়নি। তিনি ভোট দিয়ে চলে যাওয়ার পর প্রকৃত ভোটার এলে বুঝতে পারি নামের মিল থাকায় এই বিপত্তি ঘটেছে।

ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট রমজান আরা খাতুন বলেন, এটি সম্ভবত একটি ভুল বোঝাবুঝি। একই এলাকায় একই নাম ও পিতার নাম থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে প্রকৃত ভোটার যেন তার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য আমরা প্রিজাইডিং অফিসারকে অনুরোধ জানাই।

মাছখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মাসুদুর রহমান বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজেন্টদের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করেই ওই নারী ভোট দিয়েছেন। যেহেতু নাম ও পিতার নাম হুবহু এক, তাই এই ভুলটি হয়েছে। পরে প্রকৃত ভোটার এলে আমরা নিয়ম অনুযায়ী তার টেন্ডার ভোট গ্রহণ করি। আইন অনুযায়ী এভাবেই পরিস্থিতি মোকাবিলার বিধান রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সকাল থেকে কেন্দ্রে ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতি ছিল। ২ হাজার ৬৬০ ভোটারের এই কেন্দ্রে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ৩১২টি ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। নাম বিভ্রাটের ওই একটি ঘটনা ছাড়া কেন্দ্রের বাকি পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

এদিকে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাতক্ষীরার চারটি আসনের ৬০৯টি কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

তবে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অনাথ ঘোষ (৫৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার মাছিয়ারা গ্রামের ভোলা ঘোষের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শিরনা সুলতানা জানান, জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে অনাথ ঘোষ বাড়ি থেকে মাছিয়ারা ভোটকেন্দ্রের দিকে রওনা দেন। পথে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে পথেই তার মৃত্যু হয়।

আলিপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ছেলের হাত ধরে ভোটকেন্দ্রে হাজির ১০৫ বছর বয়সী মো. হেকমত আলী সরকার ভোট দিয়েছেন। এদিকে জিএন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭৫ বছর বয়সী সখিনা বেগম ছেলের সাথে ভোট দিতে আসেন।

সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, নির্ধারিত সময়েই সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জেলার চারটি আসনে মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৩ হাজার ৩৭২টি ভোটকক্ষে ১০ হাজার ৮৩৯ জন প্রিজাইডিং, সহকারী ও পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানান, এবার প্রথমবারের মতো সব কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ৬০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা রয়েছে। চারটি আসনে ১১ হাজার ১৮৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতি কেন্দ্রে ১৬ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৫ জন এবং সাধারণ কেন্দ্রে ৪ জন সদস্যের কাছে অস্ত্র রয়েছে।

সেনাক্যাম্প সূত্র জানায়, জেলার চারটি সংসদীয় আসনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৬০০ জন সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার জানান, জেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ১৭ হাজার ৭৩৯ জন, নারী ৯ লাখ ১৪ হাজার ৮২৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১৩ জন। তরুণ ভোটার (১৮–৩৫ বছর) রয়েছেন ৬ লাখ ২৮ হাজার ৬০৯ জন। নতুন ভোটার সংখ্যা ৮৬ হাজার ৫৫১ জন।

নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সারাদেশের মতো সাতক্ষীরাতেও ১০ জন প্রথম শ্রেণির বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াত ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপর একটি আসনে (সাতক্ষীরা-৩) জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

খুলনা গেজেট/এমএনএস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন