শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২

ভারতে মারা গেছে নানি, সীমান্তে শেষবার দেখার সুযোগ পেলেন আত্মীয়রা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মৃত ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ বাংলাদেশি আত্মীয়দের দেখার সুযোগ করে দিল বিজিবি ও বিএসএফ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২ টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কাছে সীমান্তে জিরো লাইনে এই পতাকা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাব্বির হোসেন রানার নানার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বসিরহাট মহকুমার ঘোজাডাঙ্গা এলাকায়। মঙ্গলবার রাতে তার নানি মারা যায়। শেষ বারের মতো নানির মৃত মুখ দেখার জন্য ভোমরা ক্যাম্পের বিজিবির সাথে যোগাযোগ করেন তিনি। বিজিবি বিষয়টি নিয়ে ভারতের ঘোজাডাঙ্গা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে সাব্বির হোসেন রানার মৃত নানির মুখ দেখার ব্যবস্থা করেন। পরে বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টায় ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শেষ বারের মতো মৃত নানির মুখ দেখেন সাব্বির হোসেন ও তার আত্মীয়স্বজনরা।

সাব্বির হোসেন রানা বলেন, স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পরে ভারত সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা সীমিত করে দেয় যার ফলে দুই দেশের নাগরিকদের আত্মীয়ের বন্ধন এক প্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এরপরও বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী— বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-এর মধ্যে সুসম্পর্ক, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের পারস্পরিক আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখতে ও কাঁটাতারের বেড়ার বাধা দূর করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার বেড়াজালে অনেক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হলেও, বিজিবি-বিএসএফ’র মানবিক আচরণ অনেক ক্ষেত্রে ওই পরিবারগুলোর জন্য এক টুকরো স্বস্তি নিয়ে আসে।

সাতক্ষীরা বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মানবিক কারণে আমরা এটা করে থাকি। এ বিষয়ে আমাদের প্রতিপক্ষ বিএসএফ ও আন্তরিকতার সাথে বিষয়টি বিবেচনা করে। আমাদের এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন