শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২

সাতক্ষীরায় বাড়ছে শিশু রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ নাগাদ শীত অব্যাহত থাকায় সাতক্ষীরার হাসপাতাল গুলোতে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। ঠান্ডা-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশু রোগীরা। গত ৮ দিনে ২১৬ জন শিশু রোগী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ও ডায়েরিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া রোগীদের একটি বড় অংশ হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু শয্যা সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

গত রবিবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু সাধারণ ওয়ার্ড ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ঠান্ডা-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর এবং কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে। মাত্র ১৩ বেডের ডায়েরিয়া ওয়ার্ডে শিশু ভর্তি রয়েছে ২৫ জন এবং হাসপাতালের তৃতীয় তলায় একই সংখ্যক বেডের শিশু সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৪৭ জন।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ১ ফেব্রুয়ারি হতে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোল্ড ডায়রিয়া আক্রান্ত ১১৯ জন শিশুকে ভর্তি করানো হয়েছে। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ২৫ জন রোগী। এছাড়া শিশু সাধারণ ওয়ার্ডে সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে ৯৭ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ভর্তি আছে ৪৭ জন। এছাড়া সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শতাধিক রোগী আউট ও ইনডোরে চিকিৎসা নিয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেকে সিট না পেয়ে মেঝেতে ও বারান্দায় গাদাগাদি করে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া বেড খালি না থাকায় অনেক অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের কোলে নিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রাতে অন্য রোগীর বেড়ে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন তাদের বাচ্চাদের। এই অবস্থায় বাচ্চার চিকিৎসা করাতে এসে অনেক অভিভাবক নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানান রোগীর স্বজনরা।

আশাশুনি উপজেলার বেউলা গ্রামের গৃহবধূ নিলুফার খাতুন তার বাচ্চাকে নিয়ে এসেছেন হাসপাতালে। বেশ কয়েকদিন ধরে শিশুটি জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছে। কিন্তু হাসপাতালে কোনো বেড খালি না থাকায় বারান্দায় রেখে বাচ্চাকে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

যশোরের কেশবপুর উপজেলা সাগরদাড়ি থেকে ডায়েরিয়া আক্রান্ত বাচ্চাকে চিকিৎসা করাতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এসেছেন রিপন দাশ। কিন্তু হাসপাতালে কোনো বেড খালি না থাকায় গতকাল রাতভর বাচ্চাকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি। মাঝে মধ্যে অন্য রোগীর বেডে বসে কিছুটা সময় কাটিয়েছি। বাচ্চাকে চিকিৎসা করাতে এসে নিজেই অসুস্থ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সদর উপজেলার কুশখালী গ্রামের গৃহবধূ তামান্না জানান, “সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি দু’দিন হয়ে গেল। কিন্তু শিশু ওয়ার্ডে কোনো বেড না থাকায় বারান্দায় কোলের ওপর রেখে সন্তানকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। দু’দিন ধরে একটুও ঘুমাতে পারিনি। বাচ্চার চিকিৎসা করাতে এসে নিজেই রোগী হওয়ার উপক্রম হয়েছে।”

সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স শান্তনা রানী জানান, “সম্প্রতি হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত বেড খালি না থাকায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। এর পরও আমরা রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।”

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সামছুর রহমান জানান, “শীত মৌসুমে শিশুদের মধ্যে ডায়েরিয়া ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। তাপমাত্রা কমে যাওয়া, শুষ্ক আবহাওয়া, সংক্রমণ ছড়ানোর অনুকূল পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি- এসব কারণ মিলিয়ে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়। এসময় অভিভাবক বা মায়েদের সতর্ক থাকতে হবে শিশুদের যাতে ঠান্ডা না লাগে।”

সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম বলেন, “আমাদের সদর হাসপাতাল মাত্র ১০০ বেডের। এখানে ১৩ বেডের ডায়েরিয়া ওয়ার্ডটি সম্পূর্ণ আলাদা। প্রায় একই সংখ্যক বেড রয়েছে শিশু সাধারণ ওয়ার্ডে। শীতের সময় শিশু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। এসময় রোগীদের একটু কষ্ট হলেও আমাদের কিছু করায় নেই। এই মুহূর্তে হাসপাতালে বেড বাড়ানোরও কোনো সুযোগ নেই। তবে আমরা ভর্তি রোগদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।” বেড সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন