শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২

জয় তুলতে মরিয়া বিএনপি, আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে জামায়াত

নিজস্ব প্রতি‌বেদক

ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ নম্বর আসনটি বিএনপির জন্য বহু আকাংখার। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচন ছাড়া কখনোই সেখানে জিততে পারেনি বিএনপি। জোট গঠনের কারণে ১৯৯৬ সালের পর আসনটিতে বিএনপির আর কোনো প্রার্থী ছিল না। প্রায় ৩০ বছর পর এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন খুলনা-২ আসনের সাবেক এমপি আলী আজগর লবী।

তাকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে এই আসনের সাবেক এমপি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের। দীর্ঘদিন ধরেই ভোটের মাঠে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন পরওয়ার। হেভিওয়েট এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে জয় তুলতে বিরামহীন পরিশ্রম করছেন বিএনপি নেতারা।

অন্যদিকে উপকূলীয় কয়রা পাইকগাছা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসনে বিএনপি সর্বশেষ জয় পায় ১৯৭৯ সালে। সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলীর পর আসনটি থেকে বিএনপির কেউ সংসদ সদস্য হতে পারেননি। এবার সেখানে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী।

অন্যদিকে জামায়াতের ঘাটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জয় পায় জামায়াতের অধ্যক্ষ শাহ মো. রুহুল কুদ্দুস। অন্য নির্বাচনগুলোতে বিএনপির চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভোট পেয়েছিল জামায়াত প্রার্থীরা। এবার আসনটি থেকে প্রার্থী হয়েছেন দলের খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। আসনটি ধরে রাখতে রাতদিন ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, খুলনা-৫ আসনে এবার ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য দু’জন হলেন সিপিবির চিত্ত রঞ্জন গোলদার ও জাতীয় পার্টির শামীম আরা পারভীন। নির্বাচনের মাঠে তাদের দৃশ্যমান তৎপরতা কম।

আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯৮ জন। তাদের জন্য ১৫০টি কেন্দ্র ও ৮২৮টি বুথ রয়েছে। অর্ধেক ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে খুলনা-৬ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৫ জন। বিএনপি-জামায়াতের বাইরে অন্য তিনজন হলেন সিপিবির প্রশান্ত কুমার মন্ডল, ইসলামী আন্দোলনের মো. আছাদুল্লাহ ফকির ও জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর।

ভোটাররা জানান, মূল লড়াই হবে আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মনিরুল হাসান বাপ্পীর।

জেলার সবচেয়ে বেশি ভোটার খুলনা-৬ আসনে ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৩১ জন। মোট ১৫৫টি ভোট কেন্দ্রের ৮৫৭টি বুথে তারা ভোট দিবেন। এই আসনের ১২৯টি ভোট কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। অর্থ্যাৎ মোট ভোট কেন্দ্রের ৮৩ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল ডাকাতিয়াসহ আশাপাশের বিলে জলাবদ্ধতা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্প কলকারখানার অভাব খুলনা-৫ আসনের বড় সমস্যা। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা দূর করাই হবে আমার প্রথম কাজ। ডুমুরিয়াকে ঘিরে সবজির হাব তৈরি, কোল্ড স্টোরেজসহ আধুনিক সংরক্ষণাগার তৈরি ও বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ এবং শিরোমনির বন্ধ কারখানা চালু করা হবে। ইতোপূর্বে দায়িত্বে থাকা অবস্থা অনেক কাজ করেছি। এবার নির্বাচিত হলে বাকি কাজ শেষ করবো।

বিএনপি প্রার্থী আলী আজগর লবী বলেন, নির্বাচিত হলে বিল ডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশনসহ মানুষের প্রয়োজনীয় সব কিছু করার চেষ্টা করবো।

অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকার দুর্বল বাঁধ, সুপেয় পানির অভাব, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের অভাব পিছিয়ে দিচ্ছে খুলনা-৬ আসনের মানুষদের। প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন।

বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, নির্বাচিত হলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে এলাকার মানুষের প্রতিটি সমস্যার সমাধান করবো।

জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, নির্বাচিত হলে নদী ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, সড়ক উন্নয়ন এবং এলাকায় কাজের পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেব।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন