১৯৫২ সাল। তখন পূর্ব পাকিস্তানের শাসনভার মূখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিনের ওপর। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই ১৯ জেলা উত্তপ্ত, রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে। সরকার তার সিদ্ধান্তে অনঢ়, উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা। ছাত্র সমাজের দৃঢ় প্রত্যয় বাংলা হবে রাষ্ট্র ভাষা। একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতীয় জীবনে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ দেশব্যাপী হরতাল-বিক্ষোভ আহ্বান করেন। এ কর্মসূচি স্তব্ধ করতে সরকার এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। ছাত্রসমাজ সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়।
একুশ ফেব্রুয়ারি, বেলা ১১টায় ঢাবি প্রাঙ্গণে ছাত্র-জনতা সমবেত হয়। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগান দিয়ে মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে ১০ করে ছাত্র মিছিল বের করে। ছাত্র আন্দোলন থামানোর জন্য পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। তখন বেলা তিনটা ২০ মিনিট। ছাত্র মিছিলের ওপর পুলিশ হাবিলদার এমরান মোল্লা গুলি চালায়। তার গুলিতে আব্দুল জব্বার ও রফিক উদ্দিন শহীদ হয়। অন্যান্যের গুলিতে আব্দুস সালাম শহীদ হন। এ পুলিশ হাবিলদারের নিকট আত্মীয় ছিলেন আবিদুর রহমান আবেদ্য মোল্লা নামক এক ব্যক্তি। পুলিশ হাবিলদার খুলনার তৎকালীন তেরখাদা থানার বারাসাত গ্রামের সন্তান। তিনি তার ভগিনীপতি একই গ্রামের এম এ রউফের কাছে এর সত্যতা স্বীকার করেন (এস এম কবিরুল ইসলাম রচিত স্বাধীনতা যুদ্ধে কালিয়া)।
১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন ও সরকার গঠন করে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট সরকার ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। শাস্তি হবে এই ভয়ে পুলিশ হাবিলদার ঢাকা থেকে পালিয়ে চলে আসে। তিনি মুসলিম লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। আশ্রয় নেন হোটেল ডিলাক্সে। এখানেই তার কর্মক্ষেত্র। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ খুলনায় গণহত্যা শুরু হয়। তিনি মুসলিম লীগকে অনুসরণ করে স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। মে মাসে রাজাকার বাহিনী গঠন হলে তেরখাদা ও মোল্লাহাট এলাকায় একাধিক যুবককে এ বাহিনীতে সম্পৃক্ত করে। ১৭ ডিসেম্বর খুলনা শত্রুমুক্ত হলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে কলাবাড়িয়া হাটে জনতার গণ-পিটুনির শিকার হন। সুযোগ বুঝে পালিয়ে ঢাকার মিরপুরে বিহারী ক্যাম্পে অবস্থান এবং সেখানেই দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। নানা রোগ যন্ত্রণায় তার মৃত্যু হয়।
খুলনা গেজেট/এনএম

