শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুফতি আমানুল্লাহ

বিএনপি’র ঘাটিতে চমক দেখাতে চায় জামায়াতের হেলাল, নির্ভার মঞ্জু

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা সদর আসনটি বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত। নব্বই পরবর্তী অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনগুলোতে খুলনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছেন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমি ধস বিজয়ের সময়ও খুলনা-২ আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনায় জনপ্রিয় নেতা হিসেবে সুনাম রয়েছে মঞ্জুর। ১৮ বছর পর সেই আসন পুনরুদ্ধার করতে বিএনপি আবারও তাকে প্রার্থী করেছে। নানা সমীকরণে এগিয়ে থাকলেও নির্বাচনটি খুব একটা সহজ হচ্ছে না তার জন্য।

আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। মর্যাদার আসন হিসেবে বিবেচিত খুলনা সদর আসনে বিজয়ী হয়ে চমক সৃষ্টি করতে চাইছে জামায়াত। এই আসনে তৃতীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলনের মহানগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ। তিন প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে খুলনায়। খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে প্রার্থীর দিক দিয়ে একেবারেই কমসংখ্যক প্রার্থী এ আসনে।

খুলনা মহানগরীর ১৬ থেকে ৩১নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে খুলনা-২ আসনের অবস্থান। এবার আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩১ হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৬ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৬৯ জন এবং ১০ জন রয়েছেন হিজড়া ভোটার। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০০ কারাগার থেকে ভোট দিবেন পোষ্টাল ব্যালটের মাধ্যমে। যারা ইতোমধ্যেই রেজিষ্ট্রেশন করেছেন বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

খুলনা-২ আসনে ১৫৭টি ভোট কেন্দ্র এবং ৬৫৭টি ভোট কক্ষ থাকবে। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ১৯টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৮৬টিকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। অর্থ্যাৎ আসনটির ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।

বিগত নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সংসদ নির্বাচনে আসন থেকে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা এম এ বারী। ১৯৭৯ সালে মুসলিম লীগের খান এ সবুর, ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ ইউ আহম্মদ। নব্বইয়ের অভ্যুত্থান পরবর্তী অংশগ্রহণমূলক প্রতিটি নির্বাচনে আসনটি থেকে বিএনপি প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির শেখ রাজ্জাক আলী, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া এবং ২০০৮ সালে নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে তিনটি নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরাই জয়ী হন। এর মধ্যে ২০১৪ ও ২০২৪ সালে নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি।

প্রায় ১৬ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা তিন প্রার্থী হলেন বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জামায়াতের এড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এবং ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আমানুল্লাহ।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিন প্রার্থী স্নাতক উত্তীর্ণ। এর মধ্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু এলএলবি, জাহাঙ্গীর হুসাইন এমএসএস এবং মুফতি আমানুল্লাহ এমএসসি উত্তীর্ণ। পেশাগত জীবনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু ব্যবসায়ী, শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল আইনজীবী এবং মুফতি আমানুল্লাহ শিক্ষাকতা করছেন। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে নজরুল ইসলাম মঞ্জু ১১টি, জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ২৮টি মামলার মুখোমুখি হন। অভ্যুত্থানের পর মামলাগুলো তারা খালাশ ও অব্যাহতি পেয়েছেন।

বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৎ, সজ্জন হিসেবে পরিচিত তিন প্রার্থীই এলাকায় জনপ্রিয়। তবে মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে জামায়াতের শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল।

ইতোমধ্যে দলের বিরোধ কাটিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে যৌথভাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। নির্বাচনে বিজয়ী হতে বিরামহীন প্রচার চালাচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। জামায়াতও সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নেমেছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে চলছে নারী ও পুরুষ কর্মীদের পৃথক টিমের প্রচার। সবমিলিয়ে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস তৈরি হয়েছে।

সার্বিক বিষয় নিয়ে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা শহর বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত। অতীতের অংশগ্রহণমূলক প্রতিটি নির্বাচনে এখানে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপিও মানুষের এই আস্থার প্রতিদান দিয়েছে। খুলনার পুরাতন বড় বড় স্থাপনা বিএনপির সময় করা। দীর্ঘদিন ধরে খুলনার মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত। বন্ধ কলকারখানা চালু করে যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরি, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে মানুষ এবারও বিএনপির ওপর আস্থা রাখবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ‘অতীতে মানুষ বড় বড় দলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে কাংখিত প্রতিদান পায়নি। মানুষ এবার পরিবর্তন চায়। তারা নতুন করে ভাবতে শিখেছে। চাঁদাবাজ, দখলমুক্ত নিরাপদ শহর, একই সঙ্গে কর্মমুখর খুলনা গড়তে সবাই মিলে দেশগড়ার প্রতীক দাড়িপাল্লার পক্ষে মানুষ ভোট দিবে।’

খুলনা-২ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, এখন পর্যন্ত পরিবেশ শান্তিপূর্ণ। ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে। আশা করছি সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষই ভোট দিবেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন