কৃষকের ধানের খেত, চায়ের টেবিল আর হাট বাজার, পথচারী কিংবা অফিস আদালতে সর্বত্র এখন শুধুই ভোটের আলোচনা। দীর্ঘ ১৫ বছর পর জনগণের ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ায় উৎসব আমেজে অভয় নগরবাসীর কেটে যাচ্ছে শান্ত সকাল, ক্লান্ত দুপুর, পড়ন্ত বিকেল আর শীতের আমেজ ঘেরা রাত্রি।
অভয়নগরের ৮ পৌর ওয়ার্ড এবং ৯ টি ইউনিয়নে মিটিং, মিছিল, আর মাইকের শব্দে সৃষ্টি হয়েছে এক অভূতপূর্ব ভোটের আমেজ। উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে অভয়নগরের সর্বত্র। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ আসনে অভয়নগরে জমে উঠেছে নির্বাচনি আমেজ। রং লেগেছে মানুষের হৃদয়ে। এই আসনে ১০ জন প্রার্থী নমিনেশন জমা দিলেও, সর্বশেষ ৭ জন প্রার্থী বাঁছাইতে টিকে ছিলেন এবং তাদের প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।
এর মধ্যে দেয়াল ঘড়ি মার্কার প্রার্থী অভয়নগরের অধিবাসী আশেক ইলাহী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে সর্বশেষ প্রার্থী রয়েছেন ৬ জন। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজি, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে অধ্যাপক গোলাম রসুল, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকে জহুরুল হক, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকে এ্যাড. বায়েজিদ হোসেন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি মনোনীত রকেট প্রতীকে সুকৃতি মন্ডল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকে নাজিম উদ্দিন আল আজাদ।
যশোর ৪ আসনে মোট ভোটার ৪,৫৮,৫২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৫০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৫ জন। বাকিগুলি তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। অভয়নগরে মোট ভোটার ২ লাখ ২৬ হাজার ৮৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৩৪৮ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৯৮ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। অভয়নগর উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র ৭৩ টি। ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের অধ্যাপক গোলাম রসুল এবং বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকের মতিয়ার রহমান ফারাজির মিছিল মিটিং পথসভা এবং মাইকিং উল্লেখযোগ্যভাবে লক্ষণীয়।
প্রত্যেক দলের নেতাকর্মীদের ঘুম হারাম করে ছুটে চলেছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে, ভোট ভিক্ষার পাশাপাশি দিচ্ছেন নানা রকম প্রতিশ্রুতি। অভয়নগর এর মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। অভয়নগর থেকে ইতঃপূর্বে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন শাহ হাদিউজ্জামান, ২০০১ সালে ৭ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম এম আমিন উদ্দিন জাতীয় পার্টি নাফি গ্রুপ থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ৯ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব এমপি নির্বাচিত হন এবং অভয়নগর থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে এনামুল হক বাবুল এমপি নির্বাচিত হন।
অভয়নগরবাসির ভোটারদের মুখে এখন শুধুই ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লা। প্রধান এই দুই দলের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। ভবদহ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, ভৈরব নদের নাব্যতা দূরীকরণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, মিল কলকারখানা চালু করণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, শিশু পার্ক ও স্টেডিয়াম নির্মাণ, শিক্ষার উন্নয়ন, চিকিৎসা সেবা, শিল্প ও বাণিজ্য নগরী নওয়াপাড়াকে যানজট মুক্ত, পরিবেশ বান্ধব নগরী গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রায় সব দলগুলোই। ভোটের আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। সাধারণ ভোটাররা চাতক পাখির ন্যায় অপেক্ষা করছেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ১২ ফেব্রুয়ারির জন্য।
খুলনা গেজেট/এনএম

