শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২

ত্রিমুখী লড়াইয়ে আদর্শের চেয়ে ভোটব্যাংক বেশি গুরুত্বপূর্ণ

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তাপ বাড়ছে ‘আওয়ামী লীগের দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ-৩ আসনে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।

এ আসনে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৮ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে নেমেছেন। তবে এসব প্রার্থীদের টার্গেট এখন আওয়ামী লীগের ভোট। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামী লীগের ভোট টানার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-৩ আসন। এ আসনে দুটি উপজেলা ছাড়াও রয়েছে ২টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন। এ আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৮৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪০৩ জন ও নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৮০ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে মাত্র একজন। আর ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১০৮টি।

এই আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসন থেকে বার বার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হারিয়েছে জামানত। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক ভিন্ন বাস্তবতায়। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাদের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক কোন দিকে যাবে সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন?

এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৬ জন দলীয় এবং ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মূলত ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

প্রধান আলোচনায় থাকা তিন প্রার্থী হলেন বিএনপি’র প্রার্থী এস এম জিলানী, স্বতন্ত্র প্রার্থী এ্যাড. হাবিবুর রহমান হাবিব ও অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।

ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণার দোঁড়-ঝাপ ততই বেড়েছে। দিনরাত আসনটির বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, সভা, সমাবেশ ও পথসভা করছেন প্রার্থীরা। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন তারা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রার্থীরা।

স্থানীয় ভোটাররা বলেছেন, গোপালগঞ্জ-৩ আসন ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। ফলে দলটি নির্বাচনে না থাকলেও তাদের ভোটব্যাংক যেদিকে যাবে মূলত সেখানেই ফলাফলের পাল্লা ভারী হবে। তবে এসব ভোটারের বড় একটি অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবং আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে, যে প্রার্থী সেই ভোট পাবে তিনিই বিজয়ী হবেন। এই আসনে আদর্শের চেয়ে ভোটব্যাংক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিএনপি’র প্রার্থী এস এম জিলানী বলেন, “বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এমনকি বিএনপিও রাজনীতি করতে পারেনি এলাকায়। তবে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকারে পতনের পর বিএনপি নির্বিঘ্নে রাজনীতি করতে পারছে। যা ভোটের মাঠে ভোটারদের আশ্বস্ত করে তুলছে। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। এতে বিএনপি জয়লাভ করবে।”

স্বতন্ত্রপ্রার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, “এ আসনটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মস্থান। ফলে এ আসনটি আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসাবে পরিচিত। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আমি জয়লাভ করবো।”

অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, “আমি মানুষের জন্য কাজ করতে এ আসনে প্রার্থী হয়েছি। আমি নির্বাচিত হলে ৫ আগস্ট ও ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার পর যে সব মিথ্যা মামলায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে তা বন্ধে কাজ করবো। এলাকার উন্নয়নে কাজ করবো।”

সব মিলিয়ে, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে ব্যতিক্রমী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটারদের আচরণ, সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ এবং দলীয় বনাম স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান সবকিছু মিলিয়ে এই আসনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন