গত দু’মাসে উল্লেখযোগ্য ভুমিক না থাকলেও জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনায় মুসলিম লীগ সরব হয়ে ওঠে। জেলার তিনটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষাবধি মনোনয়ন জমা দেয়নি। সংগঠনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে খুলনা-২ আসনে বিএনপি’র প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে। গত শনিবার নির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
দক্ষিণ জনপদের এ বড় শহর একসময় মুসলিম লীগের ঘাঁটি ছিল। দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান এ সবুর অপ্রতিদ্বন্দ্বি নেতা ছিলেন। তার মৃত্যুর পর সমর্থকরা বিএনপি’র দিকে ঝুঁকে পড়ে। ১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে পারেনি। ক্ষুদ্র সাফল্যের মধ্যে ছিল ১৯৮৪ সালে দলের মনোনয়নে সর্বশেষ পৌরসভার নির্বাচনে শেখ সিরাজুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এক পর্যায়ে তিনি জাপায় আশ্রয় নেন। এরশাদের সামরিক শাসনের মধ্যে দলের সাংগঠনিক কাঠামো বেশ জোরদার ছিল। পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল না।
সর্বশেষ সম্মেলনে অধ্যাপক ফকির রেজাউদ্দিন, শেখ বাবর আলী, শেখ জাহিদুল ইসলাম ও আক্তার জাহান রুকু নেতৃত্বে আসেন। এ কমিটির মেয়াদও শেষ। খান এ সবুরের মৃত্যুবার্ষিকী, ২১ ফেব্রুয়ারি ও ইফতার মাহফিল ছাড়া দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি নেই। কেন্দ্র অগোছালো থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারপরও খুলনা-২ আসনে এ্যাড. আক্তার জাহান রুকু, খুলনা-৩ আসনে অধ্যাপক ফকির রেজাউদ্দিন ও খুলনা-৪ আসনে শেখ বাবর আলীকে দল প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেয়। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে এবং জেলা সভাপাতির অসুস্থতার জন্য কারও মনোনয়ন জমা হয়নি।
নগর সভাপতি জাহিদুল ইসলাম প্রসঙ্গ নিয়ে বলেছেন, জেলার সার্বিক কল্যাণে এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্য তারা বিএনপিকে সমর্থন দেবে। সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চায় এ মুহূর্তে তারেক রহমানের বিকল্প নেই বলে তিনি অভিমত দিয়েছেন। তার বিশ^াস দেশের এ শীর্ষ দলটি এ জনপদের সুখ-দুঃখের সাথি হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে সমঝোতার রাজনীতির রেশ ধরে এ ঐক্য প্রক্রিয়া। ৭২ সাল থেকে দল নিষিদ্ধ হওয়ার পর শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসনের অবসনে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চায় মুসলিম লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়। সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে এখানে বিএনপিকে সমর্থন দান।
খুলনা গেজেট/এনএম

