গত ৫ বছরে সংস্কার না হওয়ায় শাহপুর-দৌলতপুর ১৪ কিলোমিটার সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের কোথাও কোথাও বিটুমিন ও পাথর উঠে বড়ো বড়ো খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এসব গর্তে পড়ে নষ্ট হচ্ছে যানবাহন, প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
নগরীর দৌলতপুর মহাসিন মোড় থেকে শাহপুর আঞ্চলিক সড়কটির চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিছু দূর পর-পর ছোট-বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় প্রায়ই যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে, ফলে রোগীসহ বিভিন্ন পেশাদার জনগোষ্ঠীর যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চালক ও যাত্রীদের চলাচলে সময় লাগছে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ।
দৌলতপুর মহাসিন মোড় থেকে শাহপুর আঞ্চলিক সড়কের দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না করায় দৌলতপুর থেকে শাহপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এ সব গর্তের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই সড়কে দিয়ে চলাচলকারী পথচারী, অপেক্ষাকৃত ছোট যানবাহনেও যাতায়াত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় রোগীবাহী যান ও শিক্ষার্থীসহ ব্যবসায়ীদের ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়ক চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, শাহপুর বাজারের সামনে, থুকড়া মাদ্রাসার সামনে, রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে, আমভিটা বাজার এলাকায়, খান জাহান আলী কৃষি কলেজের সামনে, শলুয়া বাজার, শলুয়া পূর্ণচন্দ্র বিদ্যালয়ের সামনে, বাইপাস সড়কের সামনে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। গর্তের মধ্যে ইট-খোয়া ফেলা হয়েছে, যা ছিটিয়ে ছড়িয়ে আছে।
মাহেন্দ্র চালক রওফাত খান ও বিদ্যুৎ শেখ বলেন, “ভাঙাচোরা এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। খানাখন্দের মধ্যে পড়ে যানবাহনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় গাড়ি নষ্ট হয়ে মাঝপথে পড়ে থাকে। ১৪ কিলোমিটার সড়ক পার হতে সময় লাগে এক ঘণ্টার মতো। অথচ সড়ক ভালো থাকা অবস্থায় এর অর্ধেক সময় লাগত না।”
বি এল কলেজ ছাত্র রাশেদ মোড়ল বলেন, “প্রতিদিন কলেজে যাওয়া খুব সমস্যা। একদিন গেলে দ্বিতীয় দিন আর যেতে ইচ্ছা করে না।”
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অতি দ্রুত জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি জনদুর্ভোগ লাঘবে পূনঃসংস্কার অতি জরুরি।”
এলাকাবাসী সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

