বৃহস্পতিবার । ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৫ই মাঘ, ১৪৩২

ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে চোখের ভয়াবহ ক্ষতি? সুরক্ষায় ২০-২০-২০ নিয়ম জানালেন চিকিৎসক

লাইফ স্টাইল ডেস্ক

আধুনিক এই সময় অফিস-আদালত, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত নানা কাজে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে হয় আমাদের। প্রয়োজনীয় কাজে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার, ট্যাব বা বিগ স্ক্রিনে দৃষ্টি রাখতে হয়। এমনকি বাসা-বাড়ি বিশ্রামে থাকার সময় বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে টেলিভিশন দেখা বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিংয়েও দৃষ্টি থাকে ডিজিটাল ডিভাইসে।

কোমলমতি শিশুদের বিনোদনের জন্য কার্টুন কিংবা অনলাইন ক্লাসও হয় মোবাইল ফোনে। ফলে ডিভাইসগুলোর স্ক্রিন থেকে সরাসরি আলো চোখে পড়ে।

ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিন থেকে নির্গত আলো ব্যবহারকারীর নানা ক্ষতি করে থাকে। যা শুরুর দিকে বা প্রাথমিকভাবে বুঝতে না পারলেও নির্দিষ্ট সময় পর দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করে থাকে চোখের। স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে। এ থেকে কম্পিউটার ভিশন সিনেড্রোম হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বলা হয়ে থাকে, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারকারীদের ৫০ থেকে ৯০ শতাংশই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

একটি বেসরকারি গণমাধ্যমের সাথে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যাপারে আলাপকালে জেনারেল ও এন্ডো-ল্যাপারোস্কপিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ সোহেল-উজ্জামান বলেন, হাতে থাকা স্মার্টফোন, ল্যাপটপ-কম্পিউটার ও ট্যাবের মতো আধুনিক ডিভাইসগুলো ব্যবহারের কারণে চোখের স্ট্রেনকে কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম বা ডিজিটাল আইস্ট্রেন বলা হয়।

এ রোগের লক্ষণগুলো খুবই সাধারণ, যেমন- চোখের ক্লান্তি, চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং কখনো কখনো মাথাব্যথা হয়ে থাকে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে ঘাড় ও পিঠের ওপরের অংশেও ব্যথা হওয়ার বেশ সম্ভাবনা থাকে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়:
ডা. মোহাম্মদ সোহেল-উজ্জামান বলেন, দিনে আট ঘণ্টা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা স্বাভাবিক ধরে নেয়া যায়। তবে এর বেশি সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ক্ষতি হয়। গড়ে মিনিটে ১৫ থেকে ২০ বার চোখের পলক ফেলি আমরা। কিন্তু যখন কোনো স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা হয়, তখন মিনিটে ৩ থেকে ৮/১০-এর বেশি পলক পড়ে না। এ কারণে চোখ শুষ্ক হয়। ড্রাই আই সিনড্রোম দেখা দিতে থাকে।

২০-২০-২০ নিয়ম কী:
ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের কারণে চোখের ওপর যে চাপ পড়ে, তা কমানোর একটি সহজ ও কার্যকর উপায় হচ্ছে এই ২০-২০-২০ নিয়ম।

২০ মিনিট: প্রতি ২০ মিনিট মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকার পর একবার করে বিরতি নিতে হবে।

২০ সেকেন্ড: বিরতি অন্তত ২০ সেকেন্ডের হতে হবে। চোখের পেশি শিথিল হওয়ার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন। যা চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

২০ ফুট: এই ২০ সেকেন্ডের জন্য আপনার থেকে অন্তত ২০ ফুট দূরে থাকা কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকুন। যা চোখের এক ধরনের ব্যায়ামও বটে।

মনিটরের দূরত্ব:
মনিটর আপনার চোখ থেকে অন্তত ২৫ ইঞ্চি (এক হাত দূরত্ব) দূরে রাখা উচিত। এছাড়া কোনো সমস্যা হলে সুস্থতার জন্য কালক্ষেপণ না করে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

খুলনা গেজেট/এএজে




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন