আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শহরের মতো গ্রামেও সাধারণ নারী ভোটারদের মধ্যে ভোট নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। মাঠে কাজের ফাঁকে, দুপুরে পুকুরপাড়ে কিংবা বিকেলে উঠানে হচ্ছে ভোট নিয়ে নানা রকম কথাবার্তা। ভোট দেওয়ার আগ্রহ থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে বেশ দুশ্চিন্তা। তবে এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানাচ্ছেন প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
ডুমুরিয়া উপজেলার আরশনগর গ্রামের গৃহিণী সুলতানা বেগম বলেন, “ভোট তো আমাদের অধিকার। কিন্তু আগের মতো ভোটের দিন যদি মারামারি হয়, তখন আমাদের বাইরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।”
হাসনা, আবেদা, হাসিনা ও শিল্পী বলেন, “এত বক্তব্য বা বড় বড় ওয়াদা আমাদের চাই না। আমরা কাজ করলে খেতে পাই, না করলে খাবার জোটে না। যারা আমাদের টিসিবির কার্ড করে দেবে, রাস্তাঘাট ঠিক করে দেবে, বয়স্কদের ভাতা দেবে- তাদেরকেই আমরা ভোট দেব।”
নাজমা, তানিয়া ও পারভিন বলেন, “ভোটের সময় অনেক কথা শোনা যায়। কিন্তু ভোটের পর আমাদের খোঁজ খুব কম নেতাই রাখেন। আমাদের কষ্টে যে মানুষটা পাশে দাঁড়াবে, আমরা তাকেই ভোট দেব।”
রানি বলেন, “এত বছর যা দেখেছি, তাতে একা যেতে ভয় করে। পরিবেশ ভালো থাকলে আমিও সবার সঙ্গে ভোট দিতে যাব। নারী প্রার্থী কম থাকার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। তাদের মতে, নারীরা ভোট দিলেও নেতৃত্বের জায়গায় তাদের অংশগ্রহণ খুবই কম।”
স্কুল শিক্ষিকা নুরজাহান বেগম বলেন, “আমাদের গ্রামের মেয়েরা কত কষ্ট করে সংসার চালায়। যদি মেয়েরাই নেতৃত্বে থাকতো, তাহলে সমস্যাগুলো তারা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারতো। তৃণমূল পর্যায়ে নারী নেতৃত্বের বড় অভাব রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে সৎ, যোগ্য পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবো।”
খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের বলেন, “এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ উৎসবমুখল রয়েছে। ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এবার নারী-পুরুষ উভয় ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।”
খুলনা গেজেট/এনএম



