সোমবার । ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১২ই মাঘ, ১৪৩২

খুলনার ১১ স্কুলে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থগিত, নতুন অনুমোদন ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ খুলনার ১১টি স্কুলের এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থগিত করেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক, অভিভাবক এবং এলাকাবাসী। একই সাথে বোর্ড কর্তৃপক্ষ ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন কেন্দ্র অনুমোদন দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯ জানুয়ারি বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল মতিন স্বাক্ষরিত পত্রে ২০টি কেন্দ্র স্থগিতের কথা উল্লেখ করেন। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ায় স্থগিত করা হয় বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলি হল- রূপসা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, লোটারী স্কুল, পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আফিলউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আর, আর, এফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বি, কে, ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন, খানাবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও ইসলামবাদ কলেজিয়েট স্কুল। একই সাথে ৫ টি নতুন কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়। এগুলি হল- রূপসা জে,কে,এস, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডুমুরিয়া বানিয়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তেরখাদা শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ খানজাহান আলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চালনা কে,সি, পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

এদিকে দীর্ঘ ৫০ বছর পর তেলিগাতী কুয়েট রোডে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী গভঃ ল্যাবরেটরী হাইস্কুল কেন্দ্র স্থগিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ এবং হতাশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিভাবক এবং এলাকাবাসী। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক বরাবর পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু হানিফ বলেন, “এখনো পর্যন্ত এ কেন্দ্রে পরীক্ষা পরিপন্থি কোনো কার্যক্রম কিংবা অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। বোর্ডের নির্দেশিত শর্তাবলী অনুসরণ করেই পরীক্ষা পরিচালিত হয়। কেন্দ্র স্থগিতের সংবাদে হতবাক হয়েছি।”

খানাবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এ রহিম বলেন, “ইতিপূর্বে কেন্দ্র সম্পর্কে কোনো অভিযোগ ছিল না। প্রতিবছর শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃঙ্খলভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।”

রূপসা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমাদের কেন্দ্রটি নতুন। গত বছর থেকে কেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম শুরু হয়। বোর্ড থেকে যারা কেন্দ্র পরিদর্শনে এসেছিলেন তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। কী কারণে কেন্দ্র স্থগিত করা হলো বুঝে উঠতে পারছি না।”

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান খুলনা গেজেটকে বলেন, “খুলনার স্থগিত হওয়া কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, ছাত্র কমে যাওয়া, অবকাঠামোগত সমস্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রগুলো বাতিলের ব্যাপারে জেলা প্রশাসকেরও সুপারিশ রয়েছে। স্থগিত হওয়া কেন্দ্রগুলোর ব্যাপারে পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন