বৃহস্পতিবার । ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ১লা মাঘ, ১৪৩২

মানবতাবিরোধী অপরাধে জয়-পলকের অভিযোগ গঠনের আদেশ ২১ জানুয়ারি

গেজেট প্রতিবেদন

পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হবে কি-না এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে মানবতারিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেয় ।

সকালে গ্রেপ্তার আসামি জুনায়েদ আহমেদ পলকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পলকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ।

তিনি বলেন, প্রসিকিশনের পক্ষ থেকে আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার পক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ তুলে ধরতে পারেননি। তাই আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান তিনি।

এরপর জয়ের আইনজীবী মুনজুর আলম তার বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি জয়কে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান। পরে প্রসিকিশনের পক্ষ থেকে গাজী এমএইচ তামীম বলেন, প্রসিকিশন যথাযথ তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। মামলার বিচারের সময় তা প্রমাণ করা হবে। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। দুই আসামির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, জয়ের কথামতো ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পরপর তিনটি পোস্ট করে উসকানি দেন পলক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, উভয়ের পরামর্শক্রমে ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেন জয় ও পলক। একইসঙ্গে হত্যায় সহায়তা করেন। ফলে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় শহীদ হন রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন।

তৃতীয় অভিযোগ বলা হয়, উত্তরায় ৩৪ হত্যায় সহায়তা করেন আসামিরা। তাদের উসকানি ও প্ররোচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় ছয় বছরের জাবির ইবরাহিম, সাগর হোসেন, সুজনরা শহীদ হন।

আসামিদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ গঠনের বিষয়ে ১১ জানুয়ারি শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ওই দিন তিনটি চার্জই পড়ে শোনান তিনি। একইসঙ্গে দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন