বৃহস্পতিবার । ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ১লা মাঘ, ১৪৩২

অর্ধ শতাব্দীতে ফুলতলার গাড়াখোলা স্কুলে হয়নি অবকাঠামোগত উন্নয়ন

তাপস বিশ্বাস, ফুলতলা

প্রতিষ্ঠার ৫১ বছর পেরিয়ে গেলেও ফুলতলার গাড়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। সরকারি বা বেসরকারিভাবেও লেখাপড়ার পরিবেশ সৃষ্টিতে তেমন কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ। ফলে শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা ঋতুতে টিনশেডের জীর্ণ-শীর্ণ কক্ষে চলছে পাঠদান। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। উপজেলার মধ্যে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী ও ভালো ফলাফল থাকা স্বত্বেও অজ্ঞাত কারণে পাশকৃত ভবন এখনও আলোর মুখ দেখেনি।

ফুলতলা উপজেলার গাড়াখোলা গ্রামে অবস্থিত গাড়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে ১ একর ১০ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার ১১ বছর পর ১৯৮৫ সালে বিদ্যালয়ের প্রথমে নিম্ন মাধ্যমিক স্তর এবং পরে ২০২২ সালে মাধ্যমিক স্তর এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর স্কুলের অভ্যন্তরীণ আয় ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনুদানে কয়েক দশক ধরে ৬ কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৫৩ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এবং শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে ২২ জন। বিদ্যালয়ের ৬টি কক্ষের মধ্যে ৫টি কক্ষে শ্রেণি কার্যক্রম এবং বাকি ১টি রুমে অফিসসহ প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক-কর্মচারীদের কার্যক্রম চলমান। ফলে বিভিন্ন সময়ে অভিভাবকসহ অতিথিবৃন্দ আসলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় স্কুল কর্তৃপক্ষের।

এদিকে ৫টি কক্ষে শ্রেণি কার্যক্রম চলমান থাকায় নেই মেয়ে শিক্ষার্থীদের আলাদা কোনো কমনরুম, নেই কোনো বিজ্ঞানাগার, নেই ছেলেদের ইনডোর খেলাধুলার জন্য কোনো রুম। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সহপাঠ কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সাড়ে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীকে সঠিক শিক্ষা প্রদানে প্রয়োজন শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, প্রয়োজন আধুনিক সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন।

এদিকে স্কুলে আধুনিক ভবন না থাকায় অতি গরমে শিক্ষার্থীরা ক্লাস রুমে বসতে হাঁসফাঁস করে। আবার বৃষ্টিতে টিন দিয়ে পানি পড়ে। তীব্র শীতে জানালা দরজা দিয়ে হিমেল বাতাস প্রবেশ করায় শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে যায়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, “গাড়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি অনেক পুরাতন হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি কক্ষ ভেঙে পড়ার উপক্রম। ঝড় বৃষ্টির সময় পাঠদান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তা ছাড়া বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হয়।”

স্কুলের ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈমা ইসলাম আঁখি বলেন, “আমি এই স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে বর্তমানে ১০ম শ্রেণিতে পড়ি। বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতি থাকলেও কোনো বিজ্ঞানাগার নেই। বিজ্ঞানাগার না থাকায় আমাদের ব্যাবহারিক কোনো ক্লাস হয় না।”

১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাসেল জমাদ্দার বলেন, “বৃষ্টির সময় ক্লাস রুমে পানি পড়ে বই খাতা ভিজে যায়। আর রোদের সময় প্রচণ্ড গরমে শ্রেণি কক্ষে বসা যায় না। তা ছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক পৃথক টয়লেট থাকা প্রয়োজন। সরকারের কাছে স্কুলের জন্য একটি নতুন ভবনের দাবি জানাই।”

ইংরেজি শিক্ষক লোপা সাহা বলেন, “আনন্দময় শিক্ষার জন্য সুন্দর পরিবেশ প্রয়োজন। সুন্দর ভবন থাকলে শিক্ষার্থীরা আরও মনোযোগী হয়ে পড়বে।”

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গাজী আজাদ হোসেন বলেন, “স্কুলের জন্য নিজেদের অর্থায়নে একটি শ্রেণি কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থের অভাবে সেটির ছাউনি দেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারিভাবে কোনো সাহায্য পেলে উপকার হতো।

প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বিশ্বাস বলেন, “২০১৮ সালে স্কুলের দ্বায়িত্ব নেওয়ার সময় ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত আমি ৭২ শিক্ষার্থী পাই। পরবর্তীতে শিক্ষকবৃন্দকে সাথে নিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থী বৃদ্ধিতে এলাকার অভিভাবকদের কাছে গেলে স্কুলের অবকাঠামো অনুন্নয়নের জন্য শিক্ষার্থী দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। দুয়েক বছরে গুণগত শিক্ষা প্রদানে অভিভাবকরা পরবর্তীতে তাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করানো শুরু করে। তবে স্কুলের ভবন না থাকায় আমরা শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হচ্ছি। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট নতুন ভবনের জন্য দাবি জানাচ্ছি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন